বিনা বিচারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আটক বন্ধের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

প্রকাশ : 25 Aug 2026
বিনা বিচারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আটক বন্ধের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও সমর্থকদের অনির্দিষ্টকাল ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখা বন্ধের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।


সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাদের মধ্যে শত শত ব্যক্তি এখনও কারাগারে রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে এখনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বিচারে আটকের যে সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, এভাবে অজ্ঞাত শত শত ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করার চর্চা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।


বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত নয় শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের মানুষ যে দলীয় আচরণ সহ্য করেছে, সেই একই আচরণ করা। কারাগার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দিয়ে ভরে ফেলা বা শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন বন্ধ করতে হবে।


সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, গত ১২ মে ২০২৫ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনীর অধীনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় দলটির সভা-সমাবেশ, প্রকাশনা এবং অনলাইনে দলের পক্ষে প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে খর্ব করে বলে মনে করে এইচআরডব্লিউ। 


হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জাতিসংঘের মানবাধিকার টিমকে বাংলাদেশে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাতে বলেছে। সংস্থাটি সুপারিশ করেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা সকল মামলা পর্যালোচনা করে প্রত্যাহার করা হোক, তা ২০২৪ সালের আগস্টের আগে বা পরের যেকোনো সময়ের হোক না কেন।


সম্পর্কিত খবর

;