জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন, গেজেট এ সপ্তাহেই - কার্যকর ১ জুলাই থেকে, বাস্তবায়ন তিন ধাপে

প্রকাশ : 02 Sep 2026
জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন, গেজেট এ সপ্তাহেই - কার্যকর ১ জুলাই থেকে, বাস্তবায়ন তিন ধাপে

স্টাফ রিপোর্টার: প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। এখন অপেক্ষা শুধু গেজেট জারির। নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত আদেশ এ সপ্তাহের মধ্যে জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে গেজেটটি হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ। গেজেট একটা না, বেশ কয়েকটা হবে। এসআরও আকারে বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করা হবে।


এর আগে সোমবার ৩১ আগস্ট সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫ এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় নিয়ে নতুন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রায় ১২ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হচ্ছে।


অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৭৮ হাজার টাকা। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে বাড়ছে ১০০ শতাংশ। বেতন বৈষম্য কমাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের অনুপাত বিদ্যমান ১:৯.৪৫ থেকে কমিয়ে নতুন স্কেলে ১:৭.৮ করা হয়েছে।


নতুন স্কেল একবারে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত ১০০ ভাগ এবং ১২তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা সহ সব ধরনের ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।


নতুন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে ভাতা ও পেনশনে। এতদিন শুধু ৫ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তারা মোবাইল ভাতা পেতেন, এখন ১ম থেকে ২০তম সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন। পেনশনারদের জন্য সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন ২০৩০ সাল থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। তার আগে বিকল্প হিসেবে নিট পেনশন ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যারা ৯ হাজার টাকা বা তার কম পেনশন পান তাদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজারের বেশি হলে ৫৫ শতাংশ।


এই পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক-অসামরিক কর্মচারী এবং ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সহ মোট ৩৩ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ এর আওতায় এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন কিনা সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর

;