বাংলা একাডেমিতে ‘এক রূপে বহুরূপী’ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 25 Jul 2026
বাংলা একাডেমিতে ‘এক রূপে বহুরূপী’ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: চর্যাগান, পাপেট শো, আবৃত্তি এবং কবি রাজীব কুমার দাশের কবিতা নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে আজ ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারে অনুষ্ঠিত হলো ‘এক রূপে বহুরূপী’। ভাবনগর ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়।


অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে চর্যাপদের প্রথম পদ ‘কাআ তরুবর পঞ্চবি ডাল’ পরিবেশন করেন ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পী শাহ আলম দেওয়ান, সাধিকা সৃজনী তানিয়া, বাউল অন্তর সরকার, শিলা মল্লিক, আনিস মুন্সী ও ফতেহ কালাম। পরে চর্যাপদের চতুর্থ পদ ‘তিঅড্ডা চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী’ পরিবেশন করেন সাধিকা সৃজনী তানিয়া।


রাজীব কুমার দাশের ‘সুখবতী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে তিনটি কবিতা আবৃত্তি করেন নূরুননবী শান্ত।


এরপর নাট্যকার ও গবেষক শরণ এহসান ‘রাজীব দাশের নিরন্ন ললাট: কাব্যতত্ত্ব, সাহিত্যতত্ত্ব ও নন্দনতাত্ত্বিক পাঠ’ এবং গবেষক হাসান দবির উদ্দিন ‘প্রেম, বিশ্বাস ও সমকালীন মানুষের অন্তর্গত বিপর্যয়: রাজীব কুমার দাশের সুখবতী ও আমি আমার বিশ্বাসের কাছে লজ্জিত’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 


প্রবন্ধে রাজীব দাশের কবিতায় প্রেম, বিচ্ছেদ, ক্ষুধা, সামাজিক বৈষম্য, ডিজিটাল নিঃসঙ্গতা ও নৈতিক সংকটের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।


আলোচনায় অংশ নেন কবি ও অনুবাদক শাহেদ কায়েস; বাংলা একাডেমির সহপরিচালক কবি ড. আসাদ আহমেদ; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. গহর গালিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জোবায়ের আবদুল্লাহ। আলোচকরা বলেন, রাজীব দাশ তাঁর কবিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমকালীন কবিতায় একটি স্বতন্ত্র স্বর প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।


অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নিজের কবিতাভুবন ও সৃষ্টিপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন কবি রাজীব কুমার দাশ। তিনি বলেন, ‘কবিতা আমার জীবনের অনুষঙ্গ। ইতিহাস, পুরাণ ও সমকালীন বাস্তবতার ভেতর দিয়ে আমি নিজেকে এবং বর্তমান সময়কে বোঝার চেষ্টা করি।’ পরে তিনি নিজের সদ্য রচিত একটি কবিতা পাঠ করেন।


অনুষ্ঠানের অন্তিম পর্বে চর্যাপদের কবি বীরূপা রচিত ‘না বলো ভালো না বলো মন্দ/সকলে মিলে হলো যে সঙ্গ’ গান পরিবেশন করেন অন্তর সরকারের নেতৃত্বে ভাবনগর সাধুসঙ্গের শিল্পীরা। সবশেষে কবিতা ও গানের সঙ্গে পাপেট শো পরিবেশন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতিমা বিনি ও অর্ণব মল্লিক। 


সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. সাইমন জাকারিয়া।

সম্পর্কিত খবর

;