নাইজেরিয়ায় তেল চুরির সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অনেকে

প্রকাশ : 04 Sep 2026
নাইজেরিয়ায় তেল চুরির সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার নদী-বেষ্টিত রিভার্স প্রদেশের একটি জেটিতে অবৈধভাবে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য চুরির চেষ্টাকালে বিষাক্ত ধোঁয়ায় অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ওক্রিকা লোকাল গভর্নমেন্ট এরিয়ার ওকারি জেটিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভ্যানগার্ড ও ট্রিবিউন অনলাইন জানিয়েছে, রিভার্স প্রদেশের ওক্রিকা মেইনল্যান্ড এলাকার ওকারি জেটিতে একটি জাহাজে রপ্তানির জন্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য তোলা হচ্ছিল। এ সময় ওক্রিকা ও আশপাশের এলাকার ২০০ জনেরও বেশি তরুণ কাঠের তৈরি স্থানীয় নৌকায় করে সেখানে পৌঁছান এবং পাইপলাইনের অবৈধ ট্যাপিং পয়েন্ট থেকে পণ্য চুরির চেষ্টা করেন। 


স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টার দিকে। উচ্চচাপে পণ্য পাম্প করার সময় ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কয়েকজন নদীতে পড়ে ডুবে যান। কমিউনিটি সূত্র জানিয়েছে, ৩৭টি মরদেহ ওক্রিকার বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ৬ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। 


বার্তাসংস্থা আনাদোলু ও সিনহুয়া জানিয়েছে, নাইজার ডেল্টাভিত্তিক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ইয়ুথস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টার (ইয়েক-নাইজেরিয়া) একাধিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ফাইনফেস ডুমনামেনে ফাইনফেস বলেন, নিহতরা ইন্দোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস থেকে পোর্ট হারকোর্ট শোধনাগার করিডোর হয়ে রপ্তানির জন্য জাহাজে পাঠানো পাইপলাইনে পাইপ সংযুক্ত করে পণ্য সরানোর চেষ্টা করছিলেন। ওই পণ্যটি স্থানীয়ভাবে ইন্দোরামা ফুয়েল নামে পরিচিত, যার প্রকৃত নাম সি৫। এটি প্লাস্টিক উৎপাদনের একটি উচ্চ-ঘনত্বের উপজাত, যা অত্যন্ত দাহ্য এবং তীব্র ধোঁয়া সৃষ্টি করে।


ফাইনফেস বলেন, পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে উচ্চচাপে পণ্য পাঠানোর সময় তরুণেরা একই সঙ্গে তা নৌকায় তুলছিলেন, ফলে তারা বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। নদীতে বেশ কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। 


রিভার্স প্রদেশ পুলিশের মুখপাত্র ব্লেসিং আগাবে জানিয়েছেন, ঘটনার ভয়াবহতা ও প্রকৃত চিত্র বের করতে তদন্ত চলছে। পুলিশ এখনো মৃতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, বেশ কিছু মানুষ অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে মারা গেছে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। 


এই ঘটনা তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেল্টা অঞ্চলে অবৈধভাবে তেল সংগ্রহ ও পেট্রোলিয়াম চুরির ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। সংগঠনটি ন্যাশনাল অয়েল স্পিল ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স এজেন্সিকে যৌথ তদন্ত এবং ইন্দোরামা ও এনএনপিসি লিমিটেডকে পাইপলাইনে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য বৈধ বিকল্প কর্মসংস্থান এবং মডুলার রিফাইনারির লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;