সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জামায়াতের

প্রকাশ : 15 Oct 2026
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জামায়াতের

স্টাফ রিপোর্টার: সারাদেশে সারসংকট এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সারসংকট ও ডিলার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে জরুরি প্রেস ব্রিফিং করে দলটি।


প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রব, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ড. রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার। ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে সংকটের অভাব নেই, যেখানেই হাত দেবেন সেখানেই সংকট। সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করা হয়েছে, এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও নাগরিকদের ওপর। সার বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য করা হয়েছে, বিদ্যমান সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এসব করা হয়েছে।


তিনি বলেন, একজনের দায়িত্ব থাকলেও কথা বলছেন আরেকজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে। জেলায় গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে, এ কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন, ফলে সার বিতরণে সরকার শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।


গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানের কারণে দেশে সারসংকট হচ্ছে। ডিলার নিয়োগে শর্ত মানা হয়নি। কিছু এলাকায় দলীয় প্যাডে তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো আমলে নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় সারসংকট হয়েছে এবং কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এক জায়গার বাসিন্দাকে অন্য জায়গায় ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, কখনো সারের ব্যবসা না করেও অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ডিলারশিপ নিয়েছেন, ভুয়া গুদাম ও ভুয়া চুক্তিনামা দিয়েও ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় বিএনপির প্যাডে দেওয়া তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের নামও পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ডিলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে সব ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। দাবিগুলো হলো— ১. সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ২. ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ৩. ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪. সারসংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে অসংগতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করতে হবে। ৫. ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে হবে। ৬. কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে, ভিত্তিহীন অভিযোগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে দায়ী করা যাবে না।


তিনি বলেন, সারসংকট সম্পর্কে সরকার জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়েছে, গত ৬-৭ মাসে সরকারের সর্বস্তরে দলীয়করণ ও দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের মিথ্যাচারে জামায়াতে ইসলামী উদ্বিগ্ন। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত, স্বজনপ্রীতিমুক্ত ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নমুক্ত একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার তা বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের অনুমোদিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার করার দাবি জানান তিনি এবং বিষয়টি রাজপথে না ঠেলে সংসদে সমাধানের আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত খবর

;