৮৪% কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে, ২০৫১ সালে প্রবীণ সমাজ হবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশ : 03 Nov 2026
৮৪% কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে, ২০৫১ সালে প্রবীণ সমাজ হবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি থাকলেও সেই সুযোগকে পুরোপুরি উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। কর্মসংস্থানের অভাবে দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ কাজ করেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে, যার মধ্যে ৪৪ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী। মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।


প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অর্থনীতির জন্য বড় সম্ভাবনার হলেও সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যা মোট কর্মীর প্রায় ৮৪ শতাংশ। এমনকি স্নাতক ডিগ্রিধারীদেরও ৪৪ শতাংশ কাজ করছেন অনানুষ্ঠানিক খাতে। আনুষ্ঠানিক খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে ধীরগতিতে, আর ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে গড়ে কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে।


বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ২০৪৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর থেকেই তা কমতে শুরু করবে। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনসংখ্যা এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে পুরো দক্ষিণ এশিয়া প্রবীণ অর্থনীতিতে পরিণত হবে, যখন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের হার হবে ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশ এই পর্যায়ে পৌঁছাবে ২০৫১ সালে। এর আগে ২০২৭ সালেই বাংলাদেশ ‘এজিং সোসাইটি’তে প্রবেশ করবে, যখন ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের হার হবে ৭ শতাংশ। ২০৫১ সালে তা বেড়ে ১৪ শতাংশে দাঁড়াবে, অর্থাৎ প্রতি সাত জনে একজন হবেন প্রবীণ।


প্রতিবেদনে বলা হয়, এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থা যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন স্কিমে অবদান রাখে এবং প্রবীণদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ কোনো পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন।


বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো তাদের উন্নয়ন যাত্রায় আগের চেয়ে দ্রুত এবং আগেভাগেই বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে।’ বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুযোগ নির্ভর করছে এখন কী করছে তার ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ভালো চাকরি তৈরি করতে সাহায্য করতে হবে, তরুণদের বাজার-উপযোগী দক্ষতা দিতে হবে এবং নারীদের কাজে প্রবেশে বাধা দূর করতে হবে।’


অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো, তরুণদের দক্ষতা তৈরি এবং শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।’


সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের প্রত্যাশা এবং বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছি।’


প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, প্রবীণ সমাজে প্রবেশের আগেই এখন থেকেই স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা এবং বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য অর্থায়ন সহজ করা, নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা দূর করা এবং দক্ষতা উন্নয়ন করা না গেলে তা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।


সম্পর্কিত খবর

;