জলবায়ুসহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়তে এগ্রোইকোলজির চর্চা বাড়ানোর তাগিদ

প্রকাশ : 03 Nov 2026
জলবায়ুসহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়তে এগ্রোইকোলজির চর্চা বাড়ানোর তাগিদ

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এগ্রোইকোলজি চর্চা সম্প্রসারণ এবং এ বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর, পাহাড় ও সমতলভিত্তিক কৃষিপ্রতিবেশের বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিতে নারীর অবদান ও শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার কক্ষে ‘খাদ্যব্যবস্থা, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজির পথ: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।


উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে এবং রোজা লুক্সেমবার্গ স্টিফটুং সাউথ এশিয়ার সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বারসিকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নেছার উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সুবিবুল হক।


শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বারসিকের নেত্রকোনা অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান। পরে বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহীদুল ইসলাম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সংলাপের মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এরপর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।


আলোচনায় অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ধান, সবজি ও মসলাসহ স্থানীয় কৃষিপণ্য এবং কৃষকদের লোকায়ত জ্ঞান সংরক্ষণে বারসিক যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এলাকাভিত্তিক কৃষিবৈচিত্র্য ও স্থানীয় জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারলে টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে।


শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, পরিবার ও কৃষিকাজে নারীরা প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ শ্রম দিলেও তার যথাযথ স্বীকৃতি ও আর্থিক মূল্যায়ন পান না। এগ্রোইকোলজি চর্চা সম্প্রসারিত হলে পানি সংগ্রহসহ কৃষি ও পারিবারিক কাজে নারীর অবদান আরও দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি কৃষিতে নারীর শ্রমের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।


সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এগ্রোইকোলজি শুধু কৃষি উৎপাদনের পদ্ধতি নয়, এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জ্ঞান ও কৃষিবৈচিত্র্য রক্ষা এবং কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। তাই আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এগ্রোইকোলজিকে জাতীয় কৃষিনীতি ও খাদ্যব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।


সম্পর্কিত খবর

;