সতর্ক আইনশৃঙ্কলা বাহিনী

দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে অস্ত্র : নির্বাচনে পড়তে পারে প্রভাব, শঙ্কা প্রার্থীদের

প্রকাশ : 30 Jan 2026
দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে অস্ত্র : নির্বাচনে পড়তে পারে প্রভাব, শঙ্কা প্রার্থীদের

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পাচার হয়েছে আসছে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র। চোরাপথে পাচার হয়ে আসা এসব অস্ত্র হাত বদল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সীমান্তরক্ষী বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝে মধ্যে দু’একটি অস্ত্র উদ্ধার হলেও অস্ত্র চোরাচালানের মুল হোতারা সবসময়ই রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। নির্বাচনের আর মাত্র ক’দিন বাঁকী, তাই সামনের নির্বাচনে এসব অস্ত্রের ব্যবহার বা প্রয়োগে প্রভাব পড়তে পারে এমন শঙ্কা প্রার্থীদের। তবে দুস্কৃতিকারী ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকার জানিয়েছে আইনশৃঙ্কলা বাহিনী।

দৌলতপুর সীমানায় ভারতের সাথে ৪৬ কি. মি. সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ কি. মি. ভারত সীমান্তে কাটাতারের বেড়া থাকলেও বাঁকী সীমান্ত রয়েছে কাটাতার বিহীন বা উন্মুক্ত। আর এই উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়েই সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে রাতে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের মাদকের সাথে অস্ত্র। আবার কাটাতারের বেড়ার ওপার থেকেও ছুড়ে ফেলা হয় এপারে মাদক ও অস্ত্রের চালান। যা বহনকারীদের মাধ্যমে হাত ঘুরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাদক চোরাকারবারী জানান, দৌলতপুরের জামালপুর, বিলগাথুয়া, ধর্মদহ, মুন্সিগঞ্জ, চরপাড়া, চল্লিশপাড়া, বাংলাবাজার, উদয়নগরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন প্রকার মাদকের সাথে অস্ত্র চোরাচালান হয়ে থাকে। ইদানিং অস্ত্রের চালান বেশী পাচার হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টার মধ্যে সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক ও অস্ত্র পাচার হয়। আর এসব মাদক ও অস্ত্র ওষুধের গাড়ী, সবজির গাড়ী, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন রুটে সরবরাহ হয়ে থকে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র দেশে আসায় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দলের এমপি প্রার্থীরা। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দৌলতপুর বর্ডার এলাকা, কিছু এলাকা সন্ত্রাস কবলিত আছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো সীমান্ত দিয়ে দৌলতপুরে প্রচুর অস্ত্র ঢুকছে, কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে গ্রেপ্তারও হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রশাসন যাতে আরো শক্তভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা করে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে এটা আমার দাবি।

নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালনের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সীমান্ত রক্ষী বিজিবি। ১১০ কোটি টাকার সমপরিমাণ চোরাকারবারী ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ২৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারেও রয়েছে বিশেষ অভিযান।  সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

তবে দৌলতপুরসহ কুষ্টিয়াবাসীকে আশ^স্থ করে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাশর্^বতী দেশ থেকে আন্তর্জাতিক সীমানাকে ব্যবহার করে দুস্কৃতিকারীরা বা সন্ত্রাসীরা কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে না পারে সে বিষয়টি আমরা মাথায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং দৌলতপুরের সীমান্তবর্তী  এলাকায় ভোট সেন্টার হবে ওইসব এলাকায় আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিয়েছি এবং অধিক সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অবাঁধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসব নির্বিগ্ন করতে অস্ত্র চোরাচালন বন্ধের পাশাপাশি পাচার হওয় অস্ত্র উদ্ধার জরুরী। আর এমনটাই মনে করেন সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহল।


সম্পর্কিত খবর

;