পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে অন্তত ১৫ নিহত

প্রকাশ : 12 Jun 2026
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে অন্তত ১৫ নিহত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জনের বেশি। রবিবার রাতে রাওয়ালকোটে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। 


ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানে চলে আসা শরণার্থীদের জন্য স্থানীয় আইনসভায় ১২টি আসন সংরক্ষিত রাখার বিধান বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেয় অধিকারকর্মীদের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)। ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় ৪৫ আসনের আইনসভা নির্বাচনে ওই ১২টি আসন বাতিল চেয়ে জেএএসি পুরো অঞ্চলে হরতাল ও পদযাত্রার ডাক দেয়। 


জেএএসির যুক্তি, পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে বসবাসরত শরণার্থীরা এই আসনগুলোতে ভোট দেন এবং প্রার্থী হন। এতে আজাদ কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দারা আইনসভার প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হচ্ছে। 


সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবি ওঠার পর গত শুক্রবার জেএএসিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সংগঠনটির চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দিয়ে তাদের ধরিয়ে দিতে ১ কোটি রুপি পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। 


নিষেধাজ্ঞা ও ধরপাকড়ের পরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মিরপুর, কোটলি ও রাওয়ালকোট থেকে মোজাফফরাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে। পুঞ্চ জেলার প্রশাসক সরদার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন, রাওয়ালকোটের ৪ কিলোমিটার দূরে ১০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়েছে। তাদের মোজাফফরাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হতে মাইকিং করা হচ্ছে। 


রবিবার রাতে রাওয়ালকোটে জেএএসির এক সদস্যের মরদেহ হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও পেট্রোল বোমা ব্যবহার করেছে। এতে চার পুলিশ সদস্য ও এক পথচারী নিহত হন। পাল্টা গুলিতে ছয় বিক্ষোভকারী মারা যান। 


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোজাফফরাবাদসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাট বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা আংশিক বন্ধ এবং হেলিকপ্টার টহল চলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ‘প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ’ ও ‘গণগ্রেপ্তারের’ নিন্দা জানিয়ে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। 


পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। সাংবিধানিক সংশোধন ছাড়া এগুলো বাতিল করা সম্ভব নয়। 


১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটির একটি অংশ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ করে, যা স্থানীয়ভাবে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর নামে পরিচিত। সেখানে নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট ও আদালত থাকলেও প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ইসলামাবাদের হাতে। 


সম্পর্কিত খবর

;