উজিরপুরে মানববন্ধন ঘিরে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

প্রকাশ : 11 Jun 2026
উজিরপুরে মানববন্ধন ঘিরে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মহসিন মিঞা লিটন, বরিশাল অফিস: উজিরপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন হাওলাদারের পক্ষে থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহিন হাওলাদার।


সংবাদ সম্মেলনে শাহিন হাওলাদার দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে তার সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। বরং গুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী বালাবাড়ির হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের নেতা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি মাসউদ হাসান ফিরোজের বিরোধ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কেবল অন্যায় দখলের প্রতিবাদ করেছি।”


তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তিনি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টার দিকে মানববন্ধনস্থল থেকে মাইকে তাকে এবং গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লাভলু চাপরাশিকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি ও অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তার ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। শাহিন হাওলাদারের দাবি, উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার সমর্থকরা পারাপারের জন্য এলাকায় গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।


এ ঘটনায় জসিম চোকদার ও ফয়েজ নামের দুই ব্যক্তি বাদী হয়ে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, মুফতি মাসউদ হাসান ফিরোজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার সঙ্গে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন হাওলাদারের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ১১ জুন সকাল ১০টার দিকে উজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে মুফতি ফিরোজের পরিবারের ওপর হামলা এবং তার দাবি অনুযায়ী বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে নির্মাণাধীন ভবন দখলের প্রতিবাদ জানানো হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মানববন্ধন চলাকালে শাহিন হাওলাদার ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।


মানববন্ধনের আয়োজকদের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত দুইজন গুরুতর আহতসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে প্রকৃত বিরোধ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল। তবে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ভবন দখলের অভিযোগ সামনে আসায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


একই সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।


ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পক্ষে দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সম্পর্কিত খবর

;