ইরানের সঙ্গে ‘মহা সমঝোতায়’ পৌঁছেছি, চুক্তি সই হবে শিগগির: ট্রাম্প

প্রকাশ : 12 Jun 2026
ইরানের সঙ্গে ‘মহা সমঝোতায়’ পৌঁছেছি, চুক্তি সই হবে শিগগির: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘যুদ্ধ শেষে মহা সমঝোতায়’ পৌঁছেছে এবং চুক্তিটি চূড়ান্ত দলিলের পর্যায়ে আছে। ট্রাম্প জানান, সমঝোতাপত্রটি ‘খুব শিগগির, হয়তো এই সপ্তাহান্তেই ইউরোপে’ সই হতে পারে। 


ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মহা সমঝোতা করেছি। দলিল চূড়ান্ত হলেই এটি কার্যকর হবে।” তিনি বলেন, চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। 


নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ট্রাম্প বলেছেন ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র কিনবে না, তৈরি করবে না বা বিকাশ ঘটাবে না। চুক্তিতে আরও থাকছে—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা। 


ট্রাম্প আরও জানান, সমঝোতাটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অনুমোদন করেছেন। তিনি নিজে সই করতে যাবেন না; ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, জ্যারেড কুশনার ও দূত স্টিভ উইটকফ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করবেন। 


ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, আলোচনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার জন্য নির্ধারিত ইরানে হামলা ও বোমাবর্ষণ বাতিল করেছেন। তবে তিনি জানান, চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে। 


ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, ইসরায়েল সমঝোতার পক্ষ না হলেও ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায়—বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো ও অবকাঠামো ভাঙার শর্তকে। 


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনার অনেক অংশ চূড়ান্ত হলেও ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে’ পৌঁছানো হয়নি। তেহরান তার ‘লাল রেখায়’ ছাড় দেবে না। এর আগে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, খসড়া চুক্তিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা রয়েছে। 


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি দাম বেড়ে যায়। মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি অবরোধ ও মার্কিন নৌ-অবরোধ চলছিল। চুক্তি কার্যকর হলে তিন মাসের যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান হবে এবং প্রণালী দিয়ে আবার তেল-গ্যাস পরিবহন শুরু হবে বলে আশা করছে হোয়াইট হাউস। 


সম্পর্কিত খবর

;