ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পরিচালক আটক, ক্ষুব্ধ জনতার মাদ্রাসা ভবন আগ্নিসংযোগ

প্রকাশ : 24 Oct 2026
ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পরিচালক আটক, ক্ষুব্ধ জনতার মাদ্রাসা ভবন আগ্নিসংযোগ

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফকে (৫৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা ভবন ও অভিযুক্তের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। 


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে পদ্মা মাঠসংলগ্ন ওই মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার পরিচালক। 


স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন আবু ইউসুফ। ভবনের একটি কক্ষে ছাত্রীরা থাকতেন, তাদের সঙ্গে একজন নারী শিক্ষকও থাকতেন। পাশের একটি কক্ষে থাকতেন পরিচালক। 


অভিযোগ অনুযায়ী, ভোরে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে ওই ছাত্রীকে জোর করে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পরিচালক। তার চিৎকার শুনে পাশের আরেক ছাত্রী বিষয়টি দেখে বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা এসে ছাত্রীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। 


ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে নির্যাতন করা হয়েছে এবং ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলে দাবি তার। মাদ্রাসার অন্য কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। 


এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন তার স্ত্রীর স্বজনেরা। 


ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। এ সময় পুলিশ ভবনে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 


ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ঘটনার পর ছাত্রীটি তাদের কাছে বিষয়টি জানায়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনা স্বীকার করার পর তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। 


পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। 


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


সম্পর্কিত খবর

;