আন্তর্জাতিক পরিবর্তনশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস উদযাপন

প্রকাশ : 17 Oct 2024
আন্তর্জাতিক পরিবর্তনশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস উদযাপন

ডেস্ক রিপোর্ট:  বুধবার বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ভাবনগর সাধুসঙ্গের ৫১৮তম আসরে “প্রাচীন বাংলার চর্যাপদের গান এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ” শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনেস্কো ঘোষিত প্রথম আন্তর্জাতিক পরিবর্তনশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল-ফকির সাধকেরা সমবেত কণ্ঠে লুইপা রচিত “কাআ তরুবর” শীর্ষক চর্যাপদের প্রথম পদটি পরিবেশন করেন। 


এরপর সূচনা বক্তব্য করেন নাট্যকার ও গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার জন্য ইউনেস্কো ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো কনভেনশন প্রণয়ন করে। তারপর থেকে বিশ্বব্যাপী ইউনেস্কো বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে তার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির উদ্ভাবন এবং সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের ৭-২২ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর জেনারেল কনফারেন্সে প্রতিবছর ১৭ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল ডে অফ দা ইনটেনসিবল কালচারাল হেরিটেজ উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণাতে এই দিবস উদযাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইন্টেনসিবল কালচারাল হেরিটেজের সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া, ইনটেনসিবল কালচারাল হেরিটেজ সংরক্ষণের জন্য ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভাবনগর ফাউন্ডেশনের ভাবনগর সাধুসঙ্গের আয়োজনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভাবসাধকদের চর্যাপদের গানের পুনর্জাগরণের মাধ্যমে ইউনেস্কো কনভেনশন ২০০৩-এর বাস্তবিক প্রয়োগ করেছে। ভাবনগর সাধুসঙ্গের চর্যাপদের গানের পুনর্জাগরণ এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শক্তি ও ঐশ্বর্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।”


অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মল্লরী রাগে ভুসুকুপা রচিত ৪৯ সংখ্যক চর্যাপদের গান পরিবেশন করেন সাধিকা সৃজনী তানিয়া। অন্যদের মধ্যে চর্যাপদের গান পরিবেশন করেন বরিশালের শাহ আলম দেওয়ান, মানিকগঞ্জের বাউল অন্তর সরকার, শরিয়তপুরের শিলা মল্লিক, পঞ্চগড়ের রবিউল হক, জামালপুরের হেলাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জের সিদ্দিক ফকির ও জিল্লুর সরকার, ঝিনাইদহের জ্ঞানহীন নাইম, ফতেহ কামাল, রতন মিয়া প্রমুখ।


গানের পাশাপাশি বক্তব্য করেন সুফি সাধক কামাল শাহ, গবেষক ও শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলাম নির্জন। কবিতা পাঠ করেন কবি সেলিনা শেলী।


গবেষক রেজাউল ইসলাম নির্জন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসকে অনেকে সীমাবদ্ধ দৃষ্টিতে দেখতে চান। কিন্তু আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে গভীরে। তাহলেই আমরা দেখতে পাবো কী সমৃদ্ধ আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ভাবনগর প্রাচীন বাংলার চর্যাপদের গানের পুনর্জাগরণের মাধ্যমে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে পুনর্নিমাণ করেছে।


সারিকা সৃজনী তানিয়া বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আজ একদিকে লক্ষ্মীপূজা, অন্যদিকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ও সাধক লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস। আজকের দিনে ভাবনগর সাধুসঙ্গে এসে প্রাচীন বাংলার চর্যাপদের গানের পাশাপাশি লালন সাঁইজির গান শুনে আমরা এদেশের মানবিক সংস্কৃতির শক্তিকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করছি। লালন সাঁই তাঁর চিন্তা ও দর্শনকে প্রাচীন চর্যাপদকে যেমন যুক্ত করেছিলেন তেমনি আমাদের কাল পর্যন্ত প্রভাবিত করেছেন। লালন আমাদের আজো সঠিক মানবিক পৃথিবীর নিশানা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁর গানের বাণীর মাধ্যমে।


অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলে সমবেত কণ্ঠে লালনের সাঁইজির “আমার মনের মানুষের সনে“ গানটি পরিবেশন করেন।


সম্পর্কিত খবর

;