যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা অব্যাহত

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা

প্রকাশ : 11 Jun 2026
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার পর তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সময়ে ইরানের ইসফাহানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলোকে ‘তাৎপর্যহীন’ বলে দাবি করে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ‘চূর্ণবিচূর্ণ প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে। 


সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে শুধু ইরানের বন্দরগুলোর ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে এবং তা ‘পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার’ মধ্যেই শুরু হয়েছে। এই অবরোধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ এবং ইসরাইলের ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধংদেহী’ ভূমিকার কারণে প্রণালীটি পুনরায় খোলা ‘সম্ভব নয়’। 


হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর ইরান ওই অঞ্চলে জাহাজে হামলা জোরদার করেছে। গত বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করা তিনটি কার্গো জাহাজে হামলা চালায় এবং এর মধ্যে দুটি জাহাজ ‘পরিদর্শনের’ জন্য আটক করে ইরানি উপকূলে নিয়ে যায়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, ওমানের উপকূলে একটি ট্যাংকার ও একটি কন্টেইনার জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় কন্টেইনারগুলোর কিছু ক্ষতি হলেও নাবিকরা নিরাপদ আছেন। ইরান ছোট কমান্ডো ক্রাফট এমনকি জেট স্কি ব্যবহার করে কার্গো জাহাজগুলোকে হুমকি দিচ্ছে বলেও বিবিসি’র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 


হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি জাহাজ এই রুট ব্যবহার করলেও বর্তমানে তা কমে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২৫টিতে নেমে এসেছে। প্রণালীতে এখন পর্যন্ত ২৫টির বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান ছাড়া অন্য দেশের জাহাজগুলোকে প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের নেতারা প্রণালী বন্ধ করতে চান, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতে দেবে না। 


এদিকে ইসরাইল ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে ‘চরম’ আঘাত হানবে। এক মাসের বেশি সময় ধরে অবিরাম বোমাবর্ষণের মধ্যেও ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলাগুলো তাৎপর্যহীন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যদিও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কূটনীতিক লিজ ডুসেটের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষই আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে ‘লিভারেজ’ হিসেবে ব্যবহার করছে। 


সম্পর্কিত খবর

;