সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি আদালতের

প্রকাশ : 11 Jun 2026
সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় তিন দশক পর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। 


আদালত সূত্র জানায়, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং এ কাজে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন। 


এর আগে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে এজাহার গ্রহণের জন্য রমনা থানাকে নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিনের করা অভিযোগপত্র ও অভিযুক্ত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সংযুক্ত করে নতুন করে হত্যা মামলা করতে বলা হয়। 


আদালতের নির্দেশের পর ২০ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে নায়ক সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে। আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি ও চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডন। 


১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন, যা পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের আবেদন করা হয়। এরপর সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পিবিআইয়ের তদন্তে আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসছিলেন। 


আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তে পদে পদে অন্যায় হয়েছে, কেউই দায়িত্বশীল আচরণ করেননি। বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, পিবিআইয়ের পূর্ববর্তী তদন্ত ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। নতুন করে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছেন সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তরা। 


সম্পর্কিত খবর

;