স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালাবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট খাতে রূপান্তরের একগুচ্ছ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকার শুধু মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গেই নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। মূলধারার কূটনীতির বাইরে আস্থা তৈরির বিভিন্ন প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সব পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। অতীতে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় কার্যকর সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে। প্রত্যাবাসনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই কার্যক্রম নিয়মিত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, সরকার জাতিসংঘ, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী এবং দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এর ফলে দেশটির মানবিক সহায়তা আরও বাড়বে বলে সরকার আশা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। এ কারণে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতিও বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান চালিয়েছে এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের কার্যক্রমও চলমান। বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতিবেদনে বাজার কারসাজি, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি এবং করপোরেট সুশাসনের ঘাটতিকে শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মোট এক হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দুদকে পাঠানো হয়েছে। বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে দক্ষ নেতৃত্বে নতুন বিএসইসি কমিশন গঠন, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, সরকারি ও বহুজাতিক লাভজনক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির তালিকাভুক্তি বৃদ্ধি, হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা, ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার, এআইভিত্তিক নজরদারি এবং বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।
কৃষি খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর ও কৃষি পরামর্শ সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি জানান, কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, ড্রোন ও স্যাটেলাইট তথ্যের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ ও সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। তথ্যনির্ভর প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার এবং জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। কৃষকদের জন্য চালু করা ‘খামারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন ফসল উপযোগী, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে পরিণত হবে এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উপকূলসহ সারাদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পা ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৪ মাসের মাথায় প্রথমবারের মত বরিশালে সরকারি সফরে যাচ্ছেন ১৩ জুলাই।ঐদিন বরিশাল পৌঁছে মহানগরীর পাশে বহমান কীর্তনখোল ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটালেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক র ...
চট্টগ্রাম অফিস: অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের শঙ্কায় পর্যটক এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির ‘সাজেক ভ্যালি’ পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ ...
সব মন্তব্য
No Comments