ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ : 07 Jul 2026
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা


চট্টগ্রাম অফিস: অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের শঙ্কায় পর্যটক এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির ‘সাজেক ভ্যালি’ পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সন্ধ্যা থেকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।


গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রাঙ্গামাটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেক প্রবেশ করতে পারবে না।


এদিকে টানা বৃষ্টিতে বাঘাইছাট-সাজেক সড়কের মাচালং এলাকায় পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন জানান, বর্তমানে সাজেকে ৭০-৮০টি পর্যটকবাহী গাড়ি ও অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলসহ ৪০০ থেকে ৫০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের সাজেক ত্যাগের কথা থাকলেও ধসের কারণে তা সম্ভব হয়নি।


বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আখতার জানান, সোমবার রাতের ভারী বৃষ্টিতে নন্দারাম এলাকায় সড়কের তিনটি পয়েন্টে পাহাড়ধস হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাটি সরানোর কাজ করছেন। তবে বড় ধরনের ধস হওয়ায় সড়ক স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত কিছু করার নেই।


এর আগে ভারী বর্ষণে দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়ক ও বাঘাইহাট বাজার প্লাবিত হয়। কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবজ চাকমা জানান, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে ছোটখাটো ধসের কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সকাল ৯টার পর স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।


জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় রাঙ্গামাটি শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, লোকনাথ মন্দির ও ভেদভেদি মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। শহরের ৯টি ওয়ার্ডে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৭৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।


উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে একাধিকবার ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় সাজেক সড়ক বন্ধ হয়ে শত শত পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সহিংসতার কারণে এক মাসের বেশি সময় সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এতে স্থানীয় ১২০টি রিসোর্ট-কটেজে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।


প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।


সম্পর্কিত খবর

;