সংসদে প্রশ্নোত্তরে আইনমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শুধু প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আরও জানান, মামলাজট কমাতে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ এবং পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য দেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালেই বিচার কার্যক্রম নিয়মিত চলছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর বিধি ৪৩ ও ৪৫সি অনুযায়ী ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে ৪৪ জন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। এতে জাতিসংঘ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচার পর্যবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ, অতিরিক্ত সাক্ষী ও নতুন প্রমাণ উপস্থাপনের বিধান যুক্ত হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামির সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়েছে। আসামির ন্যায্য বিচার, আইনজীবীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় এবং প্রয়োজনে সরকারি খরচে দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্যও পৃথক বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
মামলাজট নিরসন সম্পর্কে সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। সংবিধানের আলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিচারপতি নিয়োগে কাজ চলছে। অধস্তন আদালতে বিচারকের অনুমোদিত পদ ২ হাজার ৬২০টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। শূন্যপদ পূরণে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ১৯তম বিজেএসের মাধ্যমে আরও ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএসের মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত শেষ করতে তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ, সাক্ষীর জবানবন্দি, ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ মতামত সংগ্রহসহ তদন্ত কার্যক্রম কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত তদারকি করছেন। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সম্মেলনের মাধ্যমে বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জুলাই মাসের মধ্যেই নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা ও নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।মঙ্গলবার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকা ...
স্টাফ রিপোর্টার: সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের ষোলশহর সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অর্থনীতিকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্ব ...
স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আজ সোমবার তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন বিষয়ে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিং করেছেন। ব্রিফি ...
সব মন্তব্য
No Comments