হামের টিকায় বিলম্ব ও অনিয়ম তদন্তে ৩ সদস্যের কমিশন, খতিয়ে দেখবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়ও

প্রকাশ : 05 Nov 2026
হামের টিকায় বিলম্ব ও অনিয়ম তদন্তে ৩ সদস্যের কমিশন, খতিয়ে দেখবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়ও

স্টাফ রিপোর্টার: হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্বও নির্ধারণ করবে এই কমিশন।


বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, Commissions of Inquiry Act, 1956 এর section 3 এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের লক্ষ্যে তদন্ত পরিচালনা করবে কমিশন। 


কমিশনের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমান। এর অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রমে কেন বিলম্ব হয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না এবং এসব ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা তদন্ত করে চিহ্নিত করবে কমিশন। হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের অভিযোগ তদন্তে এই কমিশন কাজ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করবে। এ ছাড়া কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও সুপারিশ দিতে পারবে। 


তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের যেকোনো স্থানে পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে কমিশন। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতা দেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এ ছাড়া তদন্তের ব্যয় নির্বাহ এবং কার্যক্রমে সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কিংবা এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।


এদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। সংক্রামক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৪ নভেম্বরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৬৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে ১ নভেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৪৯ শিশুর মৃত্যু এবং পরীক্ষায় শনাক্ত ১০৫ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল, সব মিলিয়ে যা ১ হাজার ২৫৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;