৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবি

ষষ্ঠ দিনেও উত্তপ্ত গাজীপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল

প্রকাশ : 04 Nov 2026
ষষ্ঠ দিনেও উত্তপ্ত গাজীপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল

স্টাফ রিপোর্টার: ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনেও গাজীপুরের বড়বাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। 


বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 


প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকেরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিক্ষোভকারীরা নগরীর বাসন থানায় হামলার চেষ্টা চালান।


গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, সকাল থেকে সব জায়গায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বড়বাড়ী এলাকায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


শুধু গাজীপুর নয়, রাজধানীসহ সারাদেশের শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত চার দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে আশুলিয়া, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। 


শ্রমিকরা বর্তমান ১২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০,০০০ টাকা (প্রায় ২৪৫ ডলার) করার দাবি জানাচ্ছেন, যা বর্তমান মজুরির চেয়ে ১৪০ শতাংশ বেশি। তাদের যুক্তি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। 


সরকার ১ নভেম্বর ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করলেও তাতে আন্দোলন থামেনি। গত কয়েক দিনে গাজীপুর ও আশুলিয়ায় প্রায় ৭০০ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আজও অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি যোগান দেয় এবং প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এ খাতে কাজ করেন, যা বৈশ্বিক ব্র্যান্ড এইচএন্ডএম, জারা ও গ্যাপের পোশাক সরবরাহ করে। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা রপ্তানি আদেশে বিলম্ব ঘটাতে পারে বলে শিল্প মালিকরা আশঙ্কা করছেন।


সম্পর্কিত খবর

;