মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাট-ভাঙচুর, ওসি প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশ : 27 Sep 2026
মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাট-ভাঙচুর, ওসি প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ৯

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টারের পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়িত্বে অবহেলা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরের সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ন থেকে প্রশাসনিক কারণে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে এক কিলোমিটার দূরে থানা অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাতে হামলার বিষয়ে পুলিশ জানত এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।


এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া মালামালের মধ্যে দুই ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।


এর আগে শনিবার প্রথম দফায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)। পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারা জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তিনজনই শাহ আলী মাজারের ভাসমান ব্যক্তি। টাকার বিনিময়ে তারা এই ভাঙচুরে অংশ নিয়েছেন।


গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যান।


কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারিও নিয়ে যায়। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।


এদিকে হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধন ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;