১৩ মাস কারাভোগের পর

কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

প্রকাশ : 04 Jun 2026
কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার। মুক্তির পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবন চুনকা কুটিরে পৌঁছান।


কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন আদেশের কাগজ আগেই কারাগারে পৌঁছেছিল। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁকে মুক্তি দিতে সময় লাগছিল। মুক্তির সময় কারাগার ফটকে তাঁর আইনজীবী ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে মাসদাইরে কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থানে বাবা, মা ও ছোট ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেন।


আইভীর আইনজীবীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা হয়। তিনি একদিকে জামিন পাচ্ছিলেন, অন্যদিকে তাঁকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছিল। অবশেষে সব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনের প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁর মুক্তিতে আর বাধা থাকেনি। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর তাঁকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকাকালীন তাঁকে কয়েকটি মামলায় রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছয়টি মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।


মুক্তির খবরে কারাগার এলাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরে তাঁর সমর্থকরা ভিড় করেন। ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। চুনকা কুটিরের সামনেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

সম্পর্কিত খবর

;