জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে সিপিবি সভাপতি চন্দন
ডেস্ক রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতা ও সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায় ও জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ও বেতারে দেয়া জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভোট ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার জন্য সকল জনগণকে একত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপী যে ধরনের ষড়যন্ত্র এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি হুমকি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সতর্কতা, ঐক্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
চন্দন আরও বলেন, সিপিবি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে সমাজতান্ত্রিক নীতি, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও বেকারত্ব কমাতে বামপন্থি নীতিগুলোই সমাধান হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি তার বক্তব্যে জোর দেন।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয় -এটি দেশের গতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ময়দান।” তাই দেশের নাগরিকদের উচিত সক্রিয়ভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব বুঝে মূ্ল্যায়ন করা।
সিপিবি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চন্দন নিজেও নরসিংদী-৪ আসনে জনসংযোগ চালিয়ে ভোট চাইছেন, যিনি ভোটারদের সাথে সশস্ত্র সংগঠিত আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠেও সরব ভূমিকা রাখছেন।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে-
প্রিয় দেশবাসী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আজ আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি এমন এক সময়ে, যখন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে আবর্তিত হচ্ছে। গণতন্ত্রের অবক্ষয়, আইনের শাসনের দুর্বলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত, চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের অবনতি, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ এক গুরুতর সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। বর্তমান সংকট কোনো সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি একটি ব্যবস্থাগত সংকট, যে ব্যবস্থায় রাষ্ট্র ক্রমে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে এবং সাধারণ মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। সেই মুক্তিযুদ্ধ কেবল এই ভূখণ্ডের স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল না; মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বাঁচবে।
কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ পথচলায় আমাদের স্বীকার করতে হয়, এই স্বপ্ন আজও পূর্ণ হয়নি। রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ক্রমে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সম্পদ সীমিত একটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এর ফলেই স্বাধীন রাষ্ট্রে থেকেও সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
এই বাস্তবতারই ধারাবাহিকতায় আমরা সাম্প্রতিক সময়েও জনগণের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের শক্তিশালী প্রকাশ প্রত্যক্ষ করেছি। দেশবাসীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, গণতন্ত্র হরণ করে, দমনপীড়ন চালিয়ে অনির্বাচিত সরকারের শাসন চাপিয়ে দিয়ে এবং শোষণ ও বৈষম্যের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে যে কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট দুঃশাসন কায়েম করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে লাগাতার সংগ্রাম চালিয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই গণ-অভ্যুত্থান স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, জনগণ দমনপীড়ন, বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদী শাসনকে পরাস্ত করতে প্রয়োজনে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করতে পারে। বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে মানুষ দ্বিধা করে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদদের স্মরণ করছি এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রের আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সেই আকাক্সক্ষাকে দমন করে এবং নানা কৌশলে পুরনো শোষণমূলক ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।
প্রিয় দেশবাসী
গণমানুষের দিন বদলের আকাক্সক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি উত্থাপন করেছে ‘ব্যবস্থা বদলের ইশতেহার’। এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ এ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বারবার উচ্চারিত এবং বহু ক্ষেত্রে অব্যক্ত দাবিগুলোকে একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সুস্পষ্ট রূপরেখায় রূপ দেওয়ার প্রয়াস। ইশতেহারের কেন্দ্রীয় দর্শন অত্যন্ত স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে জনগণকে স্থাপন করা।
কমিউনিস্ট পার্টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে-অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান কোনো দয়া বা অনুকম্পার বিষয় নয়; এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই আমরা অঙ্গীকার করছি, এই অধিকারগুলোকে সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
আজ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই সংকট কেবল বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার ফল নয়; বরং অনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা, সিন্ডিকেট ও মজুতদারির প্রত্যক্ষ পরিণতি। এই প্রেক্ষাপটে সিপিবি প্রস্তাব করছে সর্বজনীন ও স্বচ্ছ খাদ্য রেশনিং ব্যবস্থা, যাতে প্রত্যেক নাগরিক ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পায় এবং বাজার মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হয়ে উঠতে না পারে।
একইসঙ্গে আমরা উৎপাদক-ভোক্তা সমবায় ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এই ব্যবস্থা কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবে, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী বাজার নিশ্চিত করবে এবং মধ্যস্বত্বভোগী লুটতরাজের অবসান ঘটাবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের সাম্য ও ন্যায়ের দর্শনের একটি বাস্তব অর্থনৈতিক রূপ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি প্রধান দাবি ছিল মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনের। সেই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিপিবি ঘোষণা করছে জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচির, যার মাধ্যমে প্রতি পরিবারে অন্তত একজনের সম্মানজনক কাজ নিশ্চিত করা হবে। এটি ভাতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সৃষ্ট কাজ, যাতে মানুষ আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-এই দুটি ক্ষেত্রেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন এবং জনগণের সাম্প্রতিক আন্দোলনের আকাক্সক্ষা আজও অপূর্ণ। তাই সিপিবি অঙ্গীকার করছে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থার এবং মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার, যাতে কেউ অসুস্থতা বা দারিদ্র্যের কারণে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। সিপিবি অঙ্গীকার করছে তাদের নিবন্ধন ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার। পাশাপাশি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার মাধ্যমে শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।
কমিউনিস্ট পার্টির ১৮ দফা কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-গণতন্ত্র ও জবাবদিহি ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তন টেকসই হতে পারে না।
এই প্রসঙ্গে আমি বিশেষভাবে দেশের তরুণ সমাজের প্রতি দৃষ্টি দিতে চাই। বাংলাদেশের তরুণরা আজ বেকারত্ব, অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎহীনতার মুখোমুখি। পড়াশোনা শেষ করেও কাজ নেই, কাজ থাকলেও মর্যাদা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই। অথচ এই তরুণরাই ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
তরুণদের এই শক্তি ও স্বপ্নকে যদি রাষ্ট্রীয় নীতিতে রূপ দেওয়া না যায়, তবে তা হতাশা ও ক্ষোভে পরিণত হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বাস করে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত না করে কোনো রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায় না। তাই আমাদের কর্মসূচির কেন্দ্র্রে রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, অবৈতনিক শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার, যাতে তরুণরা আশাবাদী নাগরিক হিসেবে দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হতে পারে।
প্রিয় দেশবাসী
লুটেরা ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিপরীতে কমিউনিস্ট পার্টি এ দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর। তাই সিপিবি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করছে। এর কেন্দ্রে থাকবে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা, যেখানে অধিক সম্পদশালীরা বেশি কর দেবেন এবং সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা কমানো হবে। একইসঙ্গে কালো টাকা সাদা করা এবং বিদেশে টাকা পাচারের পথ বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট রোধ করা হবে।
এই ইশতেহার শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের আহ্বান নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলের প্রস্তাব। একইসঙ্গে আমরা নবগঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ইশতেহারের অঙ্গীকারের প্রতিও পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছি।
প্রিয় দেশবাসী
আসন্ন নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মুহূর্ত। কে ক্ষমতায় যাবে, শুধু সে প্রশ্ন নয়; রাষ্ট্র কার স্বার্থে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্নেরও মীমাংসা হবে এই নির্বাচনে। সংসদ নির্বাচনই জনগণের মত প্রকাশের প্রধান সাংবিধানিক মাধ্যম। অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় বা প্রতারণামূলক ভোটে নির্বিচার সম্মতি নয়, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের বিবেক বুদ্ধি অনুযায়ী সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করুন। নির্বাচন বানচালের যেকোনো চক্রান্ত ও অপচেষ্টা রুখে দিয়ে আপনাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।
মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্নে যারা বিশ্বাস করেন, বৈষম্যহীন-গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার আকাক্সক্ষা যারা ধারণ করেন, যারা বিদ্যমান শোষণমূলক ব্যবস্থা বদলাতে চান, তাদের মনে রাখতে হবে, দেশের বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হলো জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং অনির্বাচিত শাসনব্যবস্থা। এই অবস্থাই ফ্যাসিস্ট শাসনের পথ প্রশস্ত করে।
প্রিয় দেশবাসী
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রের লড়াই, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রাম, ঐতিহাসিক তেভাগা-নানকার-টঙ্কসহ কৃষক আন্দোলন এবং শ্রমিক আন্দোলনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সবসময় সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পার্টির অসংখ্য নেতাকর্মী অকাতরে জীবন দিয়েছেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই পার্টি আজও জনগণের অধিকার আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অবিচল।
আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র প্রার্থীদের কাস্তে প্রতীকে আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করুন।
কাস্তে মার্কায় ভোট মানে শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে শক্তিশালী করা।
কাস্তে মার্কায় ভোট মানে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের কণ্ঠ সংসদে পৌঁছে দেওয়া।
কাস্তে মার্কায় ভোট মানে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইকে অগ্রসর করা।
কাস্তে মার্কায় ভোট মানে ব্যবস্থা বদলের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া।
ধন্যবাদ, আপনাদের মনোযোগের জন্য।
দুনিয়ার মজদুর এক হও।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জিন্দাবাদ।
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে নতুন আইনগত পদক্ষেপ। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, যার ফলে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ...
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও না ...
স্টাফ রিপোর্টার: ভোলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই নারীর নাম বিবি সাওদা (৩৭)। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ...
স্টাফ রিপোর্টার: ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক করার পর তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গ ...
সব মন্তব্য
No Comments