সোনিয়ার সঙ্গে মমতার বৈঠক, কংগ্রেসে ফেরার জল্পনায় তুঙ্গে তৃণমূল

প্রকাশ : 10 Jun 2026
সোনিয়ার সঙ্গে মমতার বৈঠক, কংগ্রেসে ফেরার জল্পনায় তুঙ্গে তৃণমূল

স্টাফ রিপোর্টার : ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের একদিন পরই দিল্লিতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাসভবনে গিয়ে একান্ত বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠক ঘিরে তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার জল্পনা তীব্র হয়েছে। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধী মমতাকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।


সোমবার (৮ জুন) ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সোনিয়া ও মমতার উষ্ণ আলিঙ্গন রাজনৈতিক মহলে চর্চার জন্ম দেয়। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মমতা ১০ জনপথে হাজির হন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর এটিই দুই নেত্রীর প্রথম একান্ত বৈঠক। সূত্রের খবর, বৈঠকে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল, সংসদের আসন্ন অধিবেশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের সমন্বিত অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর হামলা এবং দলের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে ভাঙনের মতো বিষয়গুলিও উঠে আসে।


আনন্দবাজার পত্রিকা জানাচ্ছে, লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং এনডিএ-তে যেতে চাইছেন। বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর দলের অন্দরে ভাঙন ও নেতাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করাকে জরুরি মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।


‘দ্য সাউথ ফার্স্ট’ জানিয়েছে, সোনিয়া মমতাকে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি পদে চেয়েছেন যাতে বিজেপির বিরুদ্ধে শুধু বাংলায় নয়, সারা দেশে লড়াই করা যায়। এমনকি মমতাকে ইন্ডিয়া জোটের চেয়ারপার্সন করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


এই আবহে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বৃহস্পতিবার ইন্দিরা ভবনে দলের সাধারণ সম্পাদক, ইনচার্জ ও পিসিসি সভাপতিদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সূত্র বলছে, বৈঠকে সোনিয়া-মমতার কথোপকথনের বিস্তারিত জানানো হবে এবং সম্ভাব্য ‘মার্জার’ নিয়ে আলোচনা হবে।


তবে দুই দলের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তৃণমূল এক্স-হ্যান্ডেলে লিখেছে, "হাসিই সব বলে দেয়... কয়েক দশক ধরে দেশের সেবায় গড়ে ওঠা এক মজবুত বন্ধন"।


উল্লেখ্য, মমতা যখন দিল্লিতে সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, ঠিক তখনই কলকাতায় কালীঘাটে তাঁর বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের পার্টি অফিস ও অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তল্লাশি চালায় সিআইডি। সই জালিয়াতি মামলায় এই তল্লাশি বলে জানা গেছে।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভাঙন ও ক্ষমতা হারানোর ধাক্কায় মমতার এই সাক্ষাৎ নিছক সৌজন্য নয়। যদিও এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, "মমতার সঙ্গে বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিত হলেও বাস্তবে কোনও পুনর্মিলন কঠিন"।


সম্পর্কিত খবর

;