সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫, আহত অন্তত ৩৪

প্রকাশ : 07 Aug 2026
সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫, আহত অন্তত ৩৪

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের দুই জেলায় পৃথক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন এবং বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে সিলেট সদর উপজেলার লালাবাজার এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি বাসের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হলে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং বহু যাত্রী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।


অন্যদিকে একই দিন ভোরে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার সামনে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস একদল শ্রমিককে চাপা দিলে ৭ জন নিহত হন। প্রথমে ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা বিভিন্ন কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি তাদের ওপর উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে এবং চালক ও তার সহকারীকে শনাক্তে অভিযান শুরু করে।


দুই দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। উভয় ঘটনায় পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানো এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়গুলো দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;