ফের আইনি লড়াইয়ের আশঙ্কা

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

প্রকাশ : 07 Aug 2026
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন এ পদক্ষেপটি এমন সময় নেওয়া হলো, যখন চলতি বছরের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের বিস্তৃত নির্বাহী আদেশকে সংবিধানবিরোধী বলে কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছিল।


হোয়াইট হাউসের নতুন আদেশ অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মচারী, কিছু নির্দিষ্ট বিদেশি প্রতিনিধির সন্তান, প্রশাসনের ভাষায় "অ্যালিয়েন এনিমি" হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং তথাকথিত "বার্থ ট্যুরিজম" বা শুধুমাত্র সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুবিধা সীমিত করার চেষ্টা করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমগুলোর ব্যাখ্যার মধ্যে পড়ে এবং এটি আগের আদেশের তুলনায় অনেক বেশি সীমিত পরিসরের।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব "বিক্রির জন্য নয়" এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে "বার্থ ট্যুরিজম" বন্ধ করাকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক শুধুমাত্র সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন বলে তাদের দাবি।


তবে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন নাগরিক অধিকার সংগঠন, অভিবাসন আইনজীবী এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী স্পষ্টভাবে বলে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির বিচারিক এখতিয়ারের অধীন প্রায় সব ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক। ফলে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং আগের মতোই দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।


এর আগে ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার একটি বিস্তৃত নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের ৩০ জুন রায় দিয়ে জানায়, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর আলোকে সেই আদেশ কার্যকর করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে আদালত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা পুনর্ব্যক্ত করে।


বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আগের বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ ব্যাখ্যার মাধ্যমে একই নীতিগত লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে আদালতের পূর্ববর্তী অবস্থান বিবেচনায় এ উদ্যোগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

;