শিক্ষার্থীই সন্দেহভাজন হামলাকারী

থাইল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলা: অন্তত ৬ জন নিহত, আহত ১৫

প্রকাশ : 07 Aug 2026
থাইল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলা: অন্তত ৬ জন নিহত, আহত ১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অদূরে ননথাবুরি প্রদেশের ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ ও জরুরি সেবা বিভাগ।


থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী। সে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে মুহূর্তেই পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেন, আবার কেউ কেউ জানালা দিয়ে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।


খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিশেষ অস্ত্রধারী ইউনিট, উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্কুলটি ঘিরে ফেলে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পুরো এলাকা নিরাপত্তার স্বার্থে সিল করে দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি হামলাকারী তার পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে সে এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং হামলাকারীর মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিবেশ ও ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল (Anutin Charnvirakul) এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে একাধিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে এক সাবেক পুলিশ সদস্যের হামলায় ৩৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। এরপর থেকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা জোরদারের দাবি আরও জোরালো হলেও বিচ্ছিন্নভাবে এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটেই চলেছে

সম্পর্কিত খবর

;