জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্বের অভাবে ধুঁকছে ক্রিকেট

প্রকাশ : 12 Sep 2022
No Image

ডেস্ক রিপোর্ট: মুখে কথার খই ফুটছে। বিসিবির কর্তারা অনেকে মুখে মুখে বিশ্বজয়ও করে ফেলছেন। কিন্তু তাদের পরিচালিত বাংলাদেশ দলটাই মাঠের ক্রিকেটে পড়ে আছে ব্যর্থতার বৃত্তে। বিশেষ করে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে টাইগারদের পারফরম্যান্স নাজুক। চলতি বছরে টি-২০তে ৯ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র দুটি। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। অথচ দেশ জুড়ে নানামুখী সংকট, গণমানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণে উত্তপ্ত ও চরম নৈরাশ্যের জালে নিমজ্জিত শ্রীলঙ্কা এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া দলটা বাংলাদেশকে হারিয়েই বিপুল বিক্রমে ঘুরে দাঁড়ায়। পরে পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ট্রফিটাও নিজেদের করে নিয়েছে দাসুন শানাকার দল। গত রবিবার ফাইনালেও দলগত নৈপুণ্যে ভাস্বর লঙ্কানরা। মরুর বুকে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে পাকিস্তানকে ২৩ রানে পরাজিত করেছে শ্রীলঙ্কা।

কিন্তু বাংলাদেশ দলকে নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশার পাহাড় ক্রমেই যেন উঁচু হচ্ছে। বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী অবশ্য লঙ্কানদের এই সাফল্যে বিস্মিত নন, বরং তাদের পরিকল্পিত ক্রিকেটের প্রশংসাই করেছেন তিনি।

আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন সঠিক পরিকল্পনার অভাবই দেখছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। সঙ্গে জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। কাঙ্ক্ষিত উন্নতি করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের মতো আয়ারল্যান্ডও ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশকে টপকে যাবে বলে আশঙ্কা এই সংগঠকের।

চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ঘাটতি
সমস্যায় জর্জরিত লঙ্কানদের ট্রফির আনন্দ উপহার দিয়েছে শানাকার দল। গতকাল সাবের বলেছেন, ‘শুধু এশিয়া কাপ নয়, অতীতে তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। তারা কয়েক জনের ওপর নির্ভর করে আগায়নি। বিভিন্ন ম্যাচে তাদের বিভিন্ন প্লেয়ার এসে হাল ধরেছে। টিমটা একটা পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা খেলেছে।’

তাদের তুলনায় বাংলাদেশের ঘাটতি সম্পর্কে বিসিবির সাবেক সভাপতি বলেন, ‘ঘাটতি তো কিছু আছেই। আমার তো মনে হয় এখানে (বিসিবি) কোনো ধরনের পরিকল্পনাই নাই। নতুন কোনো খেলোয়াড় তৈরি করতে পারি নাই, যারা সত্যিকার অর্থে দায়িত্ব নিতে পারবে। আমাদের ওপেনিংও এত দিনে আমরা ঠিক করতে পারলাম না। আমাদের মিডল অর্ডার ঠিক নাই, আমাদের পাওয়ার হিটারও নাই। তাহলে আমরা করলাম কী?

জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের অভাব
ক্রিকেট এখন দেশের কোটি কোটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, হৃদস্পন্দন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব দেখছেন না সাবের। তবে সেই প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনার অভাব এবং বিসিবিতে কাজের জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে।

গতকাল সাবের বলেছেন, ‘ন্যাচারাল ট্যালেন্ট অবশ্যই আছে। শুধু ন্যাচারাল ট্যালেন্ট দিয়েই তো আপনার ভালো দল হয়ে যাবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পরিকল্পনা। আর কোনো জায়গায় জবাবদিহি নাই তো।’

এশিয়া কাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর গোটা দল, ক্রিকেটারদের মুণ্ডুপাত চলছে সর্বত্র। কিন্তু বিসিবির কেউ ব্যর্থতার দায় নেয়নি। অভিজ্ঞ এই সংগঠক বলেন, ‘বিশ্লেষণ করে কেউ দায়িত্ব নিয়ে কি বলছে যে, এটা আমার দায়িত্ব ছিল, আমি করতে পারি নাই। সব সময় এটা হচ্ছে আরেকজনের দোষ। সেখানে তো আপনি বারবার হোঁচট খাবেন, এটাই স্বাভাবিক। এখানে পরিকল্পনা, জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব নাই।’

এখন আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে এক-দুইটা ম্যাচ জিতলেই সামগ্রিক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন না সাবের। সমস্যা অনেক গভীরে জানিয়ে গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই রেজাল্টের কথা ভাবি। এত বড় একটা টুর্নামেন্টের আগে কোচকে বাদ দিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, জালাল ভাই আছে, আমি তো আছি। এটা ওনার (বিসিবির সভাপতি) কথা, এটা আমার কথা না। বিশ্বকাপে দুইটা ম্যাচ জিতলেই কি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমস্ত সমস্যাগুলো আমরা পার হয়ে গেলাম, পাশ কাটিয়ে এলাম, তা তো না। সমস্যাগুলো তো অনেক গভীর, অনেক মৌলিক জায়গায়।’

বিশ্বকাপে উন্নতি দেখতে চান হীরা
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা মনে করেন, মৌলিক কিছু বিষয়ে ঘাটতির কারণেই টি-২০তে ক্রমাগত হারছে বাংলাদেশ। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা শারীরিকভাবে দুর্বল, আমাদের পাওয়ার হিটার নাই। ভালো রিপ্লেসমেন্টও নাই। পাওয়ার প্লের পর মাঝের ওভারে রান তুলতে পারি না। ফিল্ডিংটাও ভালো নয়।’

এই ফরম্যাটে উন্নতির জন্য হীরার পরামর্শ হলো, ‘বিশ্বকাপে আমাদের খেলায় উন্নতি আনতে হবে। গ্যাপে খেলা শিখতে হবে ব্যাটসম্যানদের, বাউন্ডারির হার বাড়ানো, ব্যাটিংয়ে স্ট্রাইক রোটেট করার দিকে নজর দিতে হবে। আর ফিল্ডিংয়ে অবশ্যই উন্নতি করতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে এবং দল হিসেবে খেলতে হবে।’
ইত্তেফাক

সম্পর্কিত খবর

;