বুয়েটে অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভিসি, অধ্যাপক ড. হাসিব প্রো-ভিসি হিসেবে যোগদান

প্রকাশ : 13 Sep 2024
বুয়েটে অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভিসি,  অধ্যাপক ড. হাসিব প্রো-ভিসি হিসেবে যোগদান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:  মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন নং-৩৭.০০.০০০০.০৭৬.৯৯.০০৩.২৪-১৮১ তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ১১(১) এবং ১১(২) ধারা অনুযায়ী বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান-কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে ৪ (চার) বছরের জন্য নিয়োগ করেছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়  সিনিয়র সহকারী পরিচালক (তথ্য) মো. শফিউর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানিয়েছেন।


বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, একই দিনে পৃথক প্রজ্ঞাপনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর-এঁর অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন নং-৩৭.০০.০০০০.০৭৬.৯৯.০০৩.২৪-১৮০ তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক The Engineering and Technological University (Amendment) Act. 2001 Gi 03 bs Aby‡”Q‡` mwbœ‡ewkZ Engineering and Technological University Ordinance এর ১২অ ধারা অনুযায়ী বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী-কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে ৪ (চার) বছরের জন্য নিয়োগ করেছেন।


১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪  যোগদানের ফলে অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বুয়েটের ১৬তম ভাইস-চ্যান্সেলর এবং অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী ৩য় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর হলেন।


উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. বদরুজ্জামান ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর পুরকৌশল বিভাগ থেকে বি.এসসি ডিগ্রী এবং একই বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে এম.এসসি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ১৯৯২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, শার্লটসভিল, ঠঅ-২২৯০১ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।



তিনি বুয়েটে যোগদানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। উপাচার্য পদে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি পুরকৌশল অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


ড. বদরুজ্জামান পরিবেশগত প্রকৌশলের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ, পানি শোধন ও পয়ঃনিস্কাশন গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি অনেক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার এবং স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য কিছু পুরস্কার এবং স্বীকৃতি: ITEX গোল্ড মেডেল পুরস্কার ২০১৯, পানির জন্য প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ পুরস্কার ২০১২, মোস্ট সাইটেড পেপার অ্যাওয়াড (২০০৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত) ইত্যাদি।


বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাগত বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে নিয়োজিত আছেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণামূলক প্রবন্ধ, রেফার্ড জার্নালস এবং কনফারেন্স প্রসিডিংস ও ৫৯০০ এর বেশী Google Citation প্রকাশ করেন।


উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বি.এসসি ডিগ্রী, বুয়েটের একই বিভাগ থেকে ১৯৯৫ সালে এম.এসসি ডিগ্রী ও ২০০৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। 


ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী গত ৩২ বছর ধরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ শিক্ষকতা ও গবেষণা করে যাচ্ছেন। পাওয়ার সেক্টরে তাঁর ২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষ করে পাওয়ার গ্রিড অপারেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড অপ্টিমাইজেশান, নির্ভরযোগ্যতা ও বর্ধিতকরণ, পাওয়ার ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, ডেটা অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড কন্ট্রোল, পাওয়ার সিস্টেম স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি, গ্রিড রিলায়েবিলিটি অ্যানালাইসিস, সিস্টেম রিলেটেড স্টাডিজ (লোড ফ্লো অ্যানালাইসিস, ফল্ট অ্যানালাইসিস, ট্রানজিয়েন্ট স্টেবিলিটি অ্যানালাইসিস, কন্টিনজেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যানালাইসিস, ভলনারেবিলিটি অ্যানালাইসিস; ফ্রিকোয়েন্সি স্টেবিলিটি, ভোল্টেজ স্থিতিশীলতা এবং কৌণিক স্থিতিশীলতা বিশ্লেষণ, ইত্যাদি), আন্ডার-ফ্রিকোয়েন্সি লোডশেডিং এবং বিপিএসের জন্য আইল্যান্ডিং স্কিম এর উন্নয়ন, গ্রিড কোড এবং অন্যান্য প্রধান ক্ষেত্রগুলির পর্যালোচনা বিষয়ে তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "গ্রীড ব্যর্থতা তদন্ত প্রকল্প, "বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বø্যাকআউটের মূল কারণ চিহ্নিত করতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ট্রানজিয়েন্টস এবং স্থিতিশীলতা অধ্যয়ন, "বাংলাদেশের পাওয়ার সিস্টেমের ইমপ্যাক্ট স্টাডি (বিদ্যুৎ কেন্দ্র/ট্রান্সমিশন লাইনের আর্ক ফার্নেস ইত্যাদি)। 


তিনি বুয়েটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন। সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত বুয়েটের ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং (INPE) এর পরিচালক ছিলেন। তিনি টেকসই এবং নবায়নযোগ্য শক্তি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (SREDA) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। 


সম্পর্কিত খবর

;