গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০, আহত ২২

প্রকাশ : 24 Aug 2026
গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০, আহত ২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। রোববার ভোররাতে ভারী বৃষ্টির পর এই ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে।


আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে জানা গেছে, কোনাক্রির সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত ভাগাড় দার-এস-সালামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাতভর টানা বৃষ্টিতে আবর্জনার বিশাল পাহাড় ধসে পড়ে আশপাশের অস্থায়ী তাঁবু, ঝুপড়ি ঘর এবং একটি তিনতলা ভবনের ওপর। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় অনেকেই চাপা পড়েন। 


গিনি সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে রোববার ভোর আনুমানিক ২টার দিকে কোনাক্রির গেবেসিয়া কমিউনে। সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৩০ জন, যার মধ্যে ৬ জন গুরুতর আহত এবং ১৬ জন হালকা আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মোট আহত ২২ জন, যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 


ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধসের পরিমাণ এতটাই বিশাল ছিল যে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন সম্পূর্ণ চাপা পড়ে গেছে।


ঘটনাস্থলে থাকা এক নারী সিরে ডিয়ালো সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তার পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন। স্থানীয় নেতা লানসিনে সিলা এর আগে বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছিলেন, তিনি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এবং ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে নেওয়া হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপজ্জনক অবস্থার কারণে এই ভাগাড়টি রোববারই বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি বাড়ায় ভাগাড়ের বর্জ্য রাজধানীর বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর আগে এলাকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। 


উল্লেখ্য, ২০১৭ সালেও একই স্থানে ভারী বৃষ্টিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত ৮ থেকে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনার পরও দার-এস-সালাম ভাগাড়ের আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

সম্পর্কিত খবর

;