জাকসু নির্বাচনে পুরুষের তুলনায় নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম

প্রকাশ : 23 Aug 2025
জাকসু নির্বাচনে পুরুষের তুলনায় নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম

সাভার প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) মনোনয়ন ফরম জমাদানের সময় শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আয়োজিত এ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চললেও হল সংসদগুলোতে রয়েছে প্রার্থী সংকট। বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোর বেশ কয়েকটিতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে প্রার্থীই পাওয়া যায়নি।

প্রতিবছরই প্রায় সমানসংখ্যক নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে নির্বাচনে পুরুষ প্রার্থীর তুলনায় নারী প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কম।

জাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় ২১টি আবাসিক হলে মোট ভোটার ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ৬ হাজার ১০২, আর ছাত্রী ভোটার ৫ হাজার ৮১৭। এরপর ১৮ আগস্ট থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানপ্রক্রিয়া শুরু হয় এবং শেষ হয় ২১ আগস্ট বিকেল ৪টায়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২৭৩ শিক্ষার্থী জাকসুর জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং ৪৬৭ জন হল সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আনুমানিক ২০ শতাংশ নারী প্রার্থী রয়েছেন।

জাকসুতে শিক্ষার্থীদের ২৫টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ২৭৩ জন এবং হল সংসদের মোট ৩১৫টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৬৭ জন।


প্রার্থী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১টি ছাত্র হল সংসদের জন্য রয়েছে ১৬৫টি পদ। এসব পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩৩৯ জন। অন্যদিকে ১০টি ছাত্রী হল সংসদের জন্য রয়েছে ১৫০টি পদ। এসব পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মাত্র ১২৮ জন। প্রতিটি হল সংসদের জন্য ১৫টি করে পদ থাকলেও নারীদের ২টি হলে মাত্র ৬ জন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।জাকসুতে কম নারী প্রার্থী অংশগ্রহণের বিষয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাকসুর এজিএস প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা বলেন, মেয়েরা সাধারণত রাজনীতি পছন্দ করে না। বুঝতে চায় না, জানতে চায় না। নিজের গন্ডির ভেতর আবদ্ধ থাকতে চায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী থাকার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলো মেয়েদেরকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য, তাদের সচেতন করার জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি৷ এছাড়া কোনো নারী যখন নেতৃত্বে আসতে চায় তখন সাইবার বুলিং, ট্যাগিং, ব্যাশিং এর শিকার হতে হয়। চরিত্র নিয়ে কথা তোলা হয়।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহের আফরোজ শাওলী বলেন, জাকসু নির্বাচনে মেয়েদের প্রতিনিধিত্বে কম তার প্রধান কারণ গুলোর মধ্যে যে আমরা একটা যে আমরা মেয়েদের পলিটিকাল এজেন্সি তৈরী করতে পারি নি। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে যেখানে একটা মেয়ে ওয়েলকামিং সিচুয়েশনে মধ্যে দিয়ে গেছে তাদের অধিকারের জন্য তারা যেমন সেই সময়ে নিজেকে ওয়েলকামিং ফিল করেছিলো সেই পরিবেশটা এখনো তৈরী হয়নি৷


এর বাহিরে আমরা যখন আমাদের জীবনে কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাই, যে স্টোকহোল্ডারের সঙ্গে মিটিং করতে যাই সেখানে মেয়েদের জিজ্ঞেস করা হয় না তারা আসলে কি চায়৷ এতে করেই তাদের প্রতিহত করার আকাক্ষা তৈরী হয়।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হল সংসদ সভা করার ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য থাকতে হয়। সে হিসেবে হল সংসদে ৬ জন সদস্য নির্বাচিত থাকলেই সংসদ চলমান রাখা সম্ভব। তবে জাকসুর গঠনতন্ত্রে বলা আছে, সংসদের কোনো পদ শূন্য হলে আবার ওই পদে নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু হল সংসদের গঠনতন্ত্রে এ বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই বলে জানান তিনি।


নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছাত্রীদের হলে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়াতে তারা এক দিন হল সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র তোলা ও জমাদানের সময় দেওয়ার কথা ভাবছেন।

সম্পর্কিত খবর

;