রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট ২০ আগস্ট

প্রকাশ : 18 Aug 2026
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট ২০ আগস্ট

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে আবারও ভোটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীদের কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় এবার সংসদে সরাসরি ভোট হওয়ার পথই খোলা থাকল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকায় আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসির তফসিল অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।


মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ


এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মধ্যে। ১১ দলীয় জোট ৯ আগস্ট অলি আহমদের নাম ঘোষণা করে।


বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের কথা দলীয় সূত্রে প্রকাশ্যে আসে ৯ আগস্ট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এর আগে বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল।


প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হওয়ায় এখন আর প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।


বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।


এরপরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে একজন করে বৈধ প্রার্থী থাকায় সংসদে আর ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। এবার দুই পক্ষের প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেন না। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ সদস্যকে এ নির্বাচনের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইসি।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া, ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন।


২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন এবং ভোট গণনার পর ফল ঘোষণা করা হবে।


নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনকে ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই হয়েছে নির্বাচন ভবনে। ভোটের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ।


গত ২৪ জুলাই গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। তাঁর পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয় এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় ইসি।


রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইসি সংসদের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করে। এর আগে ২৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠক হয়।


৬ আগস্ট ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন শেষ ধাপে ২০ আগস্ট সংসদে ভোটগ্রহণের অপেক্ষা।


জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয়ের সম্ভাবনাই রাজনৈতিকভাবে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গড়াচ্ছে—এটাই এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।


অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের প্রার্থিতা বহাল থাকায় সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। ফলে ২০ আগস্টের ভোট শুধু নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে সংসদীয় ভোটাভুটিরও পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

;