ডারউইনে ইতিহাসের পর ম্যাকাইয়ে ধস, ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ

প্রকাশ : 22 Aug 2026
ডারউইনে ইতিহাসের পর ম্যাকাইয়ে ধস, ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা নিয়েই সফর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সেই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের সেই সাফল্যে উজ্জীবিত হয়েই বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায়, যা অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু। কিন্তু সেখানে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। 


শনিবার ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চের পর নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে বাউন্সি উইকেটে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সফরকারীদের গুটিয়ে দিতে অস্ট্রেলিয়ার লেগেছে মাত্র ৩৪ ওভারের মতো। 


তাণ্ডবের শুরুটা করেন মিচেল স্টার্ক। রয়টার্স জানিয়েছে, এই বাঁহাতি পেসার প্রথম ২২ বলেই ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দেন। তিনি ম্যাচের প্রথম বলেই ওপেনার সাদমান ইসলামকে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ বানান। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান। প্রথম তিন ব্যাটারই মারেন ডাক। মুমিনুল হক ৯ রানে গ্রিনের হাতেই ক্যাচ দেন, লিটন দাস ৫ বল খেলে ডাক মারেন এলবিডব্লিউ হয়ে। এতে ৬.৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্টার্ক এই সময়ে ৪ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৪ রান দিয়ে ফাইফার পান, যা টেস্টে ষষ্ঠ দ্রুততম ফাইফার। এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ফাইফারের রেকর্ডও তার দখলে। 


৬ উইকেটে ২১ রান থেকে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তাদের ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম সেশন শেষ করে বাংলাদেশ। লাঞ্চের সময় ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে স্কোর ছিল ৩৫ রান। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে ফিরে কামিন্স সেই জুটি ভাঙেন। মিরাজ ১১ রানে তৃতীয় স্লিপে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচ হন। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের শিকার হন হাসান মাহমুদ ১০ রানে। কামিন্স এরপর তাসকিন আহমেদকে ১ রানে ফেরান, সব মিলিয়ে তার ফিগার দাঁড়ায় ৩-২৫। 


৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউটের শঙ্কায়। সেই লজ্জা এড়ান তাইজুল ইসলাম, হ্যাজেলউডকে চার মেরে। শেষ দিকে শরিফুল ইসলাম ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। তাইজুলের সঙ্গে তার ২৫ রানের জুটিই ইনিংসের সর্বোচ্চ। শেষ পর্যন্ত স্টার্ক শরিফুলকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশকে অলআউট করেন। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। স্টার্ক ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট। 


সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে আছে ডারউইনে ৯ উইকেটের জয়ের পর। 


সম্পর্কিত খবর

;