দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সাপের বিষ উদ্ধার, আটক ৪

প্রকাশ : 22 Aug 2026
দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সাপের বিষ উদ্ধার, আটক ৪

রংপুর অফিস: দিনাজপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযানে বিদেশে পাচারের সময় ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।


গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১৩:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, দিনাজপুর ক্যাম্প, র‍্যাব-১৩ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ অভিযানিক দল জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।


অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩টি কাচের জারে রক্ষিত আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ, ১টি প্রাইভেটকার, ২টি মোটরসাইকেল, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৬টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।


আটককৃতরা হলেন:


১. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), পিতা- মোকলেসুর হক, গ্রাম- দামুর, উপজেলা- চিরিরবন্দর, জেলা- দিনাজপুর।

২. মোঃ সালাউদ্দিন সান্জু (৪১), পিতা- মৃত এ কে এম শহিদুল ইসলাম, গ্রাম- ছোট গুড়গোলা, উপজেলা- দিনাজপুর সদর।

৩. মোঃ আনিছুর রহমান (৫৫), পিতা- মৃত আব্দুল মজিদ, গ্রাম- ক্ষেত দেখি, উপজেলা- ফুলবাড়ী।

৪. উজ্জল আলী (৫৪), পিতা- মৃত মোবারক, গ্রাম- কৃন্দনহাট, উপজেলা- বিরামপুর।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ইতোপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচার করেছে। উদ্ধারকৃত বিষও বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল।


উদ্ধারকৃত সাপের বিষ, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৮,৫৭,০৩,৮০০/- (আটত্রিশ কোটি সাতান্ন লাখ তিন হাজার আটশত) টাকা।


অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারকৃত মালামালসহ ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর ল্যাবরেটরিতে উদ্ধারকৃত নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নমুনাটি সাপের বিষ হিসেবে শনাক্ত হয়।


এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “অতি মূল্যবান সম্পদ ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্যসহ যেকোনো অবৈধ দ্রব্যের পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”

সম্পর্কিত খবর

;