আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party) ও ছাত্র সংগঠনগুলোর ডাকা বিক্ষোভ তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। ৬ জুন ২০২৬ CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে যন্তর মন্তরে প্রথম সরাসরি গণআন্দোলনের সূচনা করেন। NEET (জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা)-সহ জাতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, শিক্ষার্থী আত্মহত্যা ও NTA (জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা)-র স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চান।
২০ জুন দ্বিতীয় দফার প্রতিবাদ সমাবেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী থালা-বাসন বাজিয়ে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে রাস্তায় নামেন। দিল্লি পুলিশ জানায়, সমাবেশের অনুমতি বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকলেও আয়োজকরা ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তর না ছাড়ার ঘোষণা দেন। ২৮ জুন লাদাখের পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ২০-২২ জুলাই ‘সংসদ চলো’ মার্চ ঘিরে পার্লামেন্ট স্ট্রিটে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দিল্লি পুলিশের সর্বশেষ ভূমিকায় দেখা গেছে, বিক্ষোভ দমনে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। ড্রোনে নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বিক্ষোভকারীদের ছবি-ভিডিও তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দিল্লি উচ্চ আদালতে জনস্বার্থ মামলাও হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, ২১ জুলাই রাতে CJP-র মার্চে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে FIR (প্রথম তথ্য বিবরণী) করা হয়েছে। যদিও আইনজীবী সৌরভ দাস জানান, আটক সবাইকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ওই রাতেই ‘পাঞ্জাবিয়ান আ গয়ে’ (পাঞ্জাবিরা এসে গেছে) স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে যন্তর মন্তর। পাঞ্জাব থেকে আসা শিখ যুবকদের একটি বড় দল পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, পাগড়ি পরা যুবকরা ‘জো বোলে সো নিহাল’ ধ্বনি দিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে এই স্লোগান রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়।
আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থনও বাড়ছে। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব ওয়াংচুকের জীবনকে ‘অমূল্য’ বলে অনশন ভাঙার আহ্বান জানান। ১৬ জুলাই দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যন্তর মন্তরে এসে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করে সোনম ওয়াংচুককে শিক্ষামন্ত্রী করার প্রস্তাব দেন। পশ্চিমবঙ্গে CPIM (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি - মার্ক্সবাদী), SFI (ভারতের ছাত্র ফেডারেশন) ও DYFI (ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন) কলকাতার যাদবপুর 8B থেকে মশাল মিছিল বের করে ‘Scrap NTA, Oppose NEP’ (NTA বাতিল করো, NEP-এর বিরোধিতা করো) ব্যানারে দিল্লির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানায়।
দিল্লির বাইরেও আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়েছে। কেরালা হাউসের সামনে CJP-র ধর্না চলছে। মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নাগপুরেও ৬ জুন থেকে বিক্ষোভ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও বিক্ষোভকারীদের দাবি বা ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
তাপদাহ উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম। প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই ‘ককরোচ প্রটেস্ট’ (তেলাপোকা প্রতিবাদ) এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা আগের চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি বলেছেন, এমন সংঘাতের প্রভ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জোশিমঠ-বদ্রীনাথ রুটে নিখোঁজ হওয়া বেসরকারি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় চালক ও ৫ যাত্রীসহ মোট ৬ জনই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন। ভা ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ২৬তম নেসেট নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন, কিন্তু প্রধান ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্পেনের তোলেদো অঞ্চলে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ ...
সব মন্তব্য
No Comments