প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন, নারী ব্যালন আলেক্সিয়া পুতেয়াস

প্রকাশ : 27 Oct 2026
প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন, নারী ব্যালন আলেক্সিয়া পুতেয়াস

বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন: ২০২৬ ব্যালন ডি’অর যে হ্যারি কেইন জিততে যাচ্ছেন, এটা ছিল অনেকটাই অনুমিত। লন্ডনের প্যালাডিয়ামে সোমবার রাতে সেই অনুমান ভুল প্রমাণিত হয়নি। ইংলিশদের ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন হ্যারি কেইন। সে পথে তিনি পেছনে ফেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল, লিওনেল মেসির মতো তারকাদের।


এটা ছিল ব্যালন ডি’অরের ৭০তম সংস্করণ এবং প্রথমবার এই অনুষ্ঠান লন্ডনে আয়োজিত হয়। ১৯৫৬ সালে প্রথম বিজয়ী স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসকে সম্মান জানাতে এবারের আসর লন্ডনে নেওয়া হয়। মঞ্চে উঠে আবেগাপ্লুত কেইন বলেন, প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। লন্ডনে এই সম্মান পাওয়া আরও বেশি বিশেষ।


কেইনের জয় ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর তিনিই প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন। ইতিহাসে তিনি মাত্র পঞ্চম ইংলিশ বিজয়ী। এর আগে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস, স্যার ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েন এই পুরস্কার জিতেছিলেন। বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৮১ সালে কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগের পর প্রথম কেউ এই পুরস্কার পেলেন।


চূড়ান্ত ভোটে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তৃতীয় হয়েছেন বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি এবং পঞ্চম হয়েছেন রেকর্ড আটবারের বিজয়ী লিওনেল মেসি। এরপর যথাক্রমে রয়েছেন খভিচা কাভারাতস্কেলিয়া, উসমান দেম্বেলে, আর্লিং হালান্ড, মাইকেল ওলিসে ও ফাবিয়ান রুইজ।


কেইনের এই জয় এসেছে এক অবিশ্বাস্য মৌসুমের পর। ব্যালন ডি’অরের বিবেচ্য সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত তিনি ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন। বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয় মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি, যা তাঁকে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুও এনে দিয়েছে।


বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তিনি বুন্দেসলিগা, ডিএফবি পোকাল ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপ জিতে ঘরোয়া ট্রেবল সম্পন্ন করেছেন। ডিএফবি পোকালের প্রতিটি রাউন্ডে গোল করেছেন, ফাইনালে করেছেন হ্যাটট্রিক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল করে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।


ইংল্যান্ড অধিনায়ক হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ৬ গোল করে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে যান, যা ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের সেরা ফল। বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যায় তিনি গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। মেসির ২০১১-১২ মৌসুমে ৮২ গোলের পর ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কেইন।


এমবাপ্পে এই মৌসুমে ৬০ ম্যাচে ৫৮ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট করেছেন, কিন্তু বড় কোনো দলীয় শিরোপা না থাকা তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ইয়ামাল করেছেন ৫৭ ম্যাচে ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট। তিনি অবশ্য খালি হাতে ফেরেননি, টানা তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন কোপা ট্রফি। মেসি দুই আসর বাদ পড়ার পর আবার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ফিরে পঞ্চম হয়েছেন।


একই রাতে কেইন জিতেছেন পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও, যা সেরা স্ট্রাইকারকে দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালেও তিনি এই ট্রফি জিতেছিলেন। নারী ব্যালন ডি’অর তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন বার্সেলোনার আলেক্সিয়া পুতেয়াস।


অনুষ্ঠানে আরও পুরস্কার জিতেছেন লামিন ইয়ামাল ও ভিকি লোপেজ, গোলরক্ষক হিসেবে উনাই সিমন ও কাতা কোল, কোচ হিসেবে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। পুরুষদের ক্লাব অব দ্য ইয়ার হয়েছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন এবং নারীদের ক্লাব অব দ্য ইয়ার হয়েছে বার্সেলোনা। মানবিক কাজের জন্য সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন আর্সেনালের বুকায়ো সাকা।


সম্পর্কিত খবর

;