ববিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পদত্যাগের ঘোষণা শিক্ষকদের

প্রকাশ : 13 May 2026
ববিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা,  পদত্যাগের ঘোষণা শিক্ষকদের

বরিশাল অফিস: টানা তিন দিনের শাটডাউনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক অনিয়ম, নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল। সর্বশেষ গত তিন দিন ধরে শিক্ষক সমিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের ডাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত থাকায় সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক স্বেচ্ছায় প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে তারা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াননি বলে জানিয়েছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ও শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে আমরা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচিতে গিয়েছি। উপাচার্যের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নেই। আমরা চাই মন্ত্রণালয় দ্রুত হস্তক্ষেপ করুক।”


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শাটডাউনের কারণে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তারা লাগাতার কর্মসূচি দেবেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপাচার্যের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়কে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে।”


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক মাসে নিয়োগ, পদোন্নতি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। এর আগে শিক্ষক সমিতি কয়েক দফা স্মারকলিপি দিলেও সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।


শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সাধারণ সভা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্লাসে ফেরার দাবি জানিয়ে পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে শিগগিরই দুই পক্ষের সঙ্গে বসা হবে।”

সম্পর্কিত খবর

;