ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে তিনগুণ নিরাপত্তা, কেন্দ্রে সিসিটিভি, মাঠে বডিওন ক্যামেরা ও ড্রোন

প্রকাশ : 28 Oct 2026
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে তিনগুণ নিরাপত্তা, কেন্দ্রে সিসিটিভি, মাঠে বডিওন ক্যামেরা ও ড্রোন

স্টাফ রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটাররা যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে কমিশন থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের পুরো নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন তদারকির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডিওন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটগ্রহণের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।


আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন।


এই আসনটি শূন্য হয়েছিল গত ২০ আগস্ট। সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) ও ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে হবে বলে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আগেই জানিয়েছিলেন, সেনাবাহিনী ছাড়াই এই উপনির্বাচন আয়োজন করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করতে না পারে। কেউ অপকর্ম করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা হবে।


নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৭০টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মাঠে থাকবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), যাদের সহায়তায় ৬টি মোবাইল প্যাট্রোলিং টিম, ২টি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ দল এবং জরুরি মুহূর্তে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ৫ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি পুরো কার্যক্রম তদারকিতে চালু করা হয়েছে ‘অপারেশনস কন্ট্রোল রুম’ ও ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’। ভোটগ্রহণের আগের দিন ও ভোটের দিন সিসি ক্যামেরা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে জেলা নির্বাচন কমিশন। সব কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।


নির্বাচন কমিশন ভোটারদের উদ্দেশে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপতথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে।


সম্পর্কিত খবর

;