জাতিসংঘে ট্রাম্পকে ইরানের প্রেসিডেন্টের কড়া জবাব

হুমকি-চাপে মাথা নত করবে না তেহরান

প্রকাশ : 24 Sep 2026
হুমকি-চাপে মাথা নত করবে না তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলাকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে কড়া নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না। 


বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন। এর আগের দিন মঙ্গলবার একই মঞ্চে ট্রাম্প ইরানকে 'সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে 'ধ্বংস' করে দেয়ার হুমকি দেন। তার জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন,


"মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমরা সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছি, সন্ত্রাসী নই। আমরা কেবল আত্মরক্ষা করেছি।" 


ভাষণের সময় তিনি পোডিয়ামে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি এবং যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৫০ জনের বেশি স্কুলশিশুর ছবি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার চেষ্টা এবং স্কুলে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। 


পারমাণবিক ইস্যুতে অবস্থান:

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, ইরান অগ্রগতির জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি চায়, অস্ত্র তৈরির জন্য নয়।


"আমি এই সমাবেশের সামনে আরও একবার ঘোষণা করছি যে, ইরান কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি এবং কখনো করবেও না।" 


তিনি বলেন, "পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়। আমরা অগ্রগতির জন্য জ্বালানি চাই। কৃষিসহ বিভিন্ন শিল্পের উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ইরানের অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পারমাণবিক প্রযুক্তি কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার হতে পারে না।"


মার্কিন প্রতিনিধির ওয়াকআউট:

পেজেশকিয়ানের ভাষণ চলাকালেই প্রতিবাদ হিসেবে সভাকক্ষ ত্যাগ করে মার্কিন প্রতিনিধি দল। এর আগে ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইরানি প্রতিনিধি দলও কক্ষ ত্যাগ করেছিল। 


ভাষণের শেষ অংশে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "মিস্টার ট্রাম্প এবং যারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বুঝতে হবে যে, নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ ও ভয় দেখানোর মুখে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ কেবল বাড়বে। আমরা কখনো মাথা নত করব না বা হাঁটু গেড়ে বসব না। আমরা সংলাপ ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তবে শক্তির ভাষা মেনে নেব না।" 


তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যেখানে তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।  

সম্পর্কিত খবর

;