ডেঙ্গু প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গলে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

প্রকাশ : 23 Sep 2026
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গলে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে সচেতনতামূলক সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।


বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সভাকক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরপি নিউজের সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। ডেঙ্গু প্রতিরোধে একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে, অন্যদিকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।


তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে রোগের বিস্তার ঠেকাতে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।


দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সদস্যরা অংশ নেন।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. আখতার হোসেন, শ্রীমঙ্গল বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাফিজ আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম এ রকিব, দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এহসান বিন মুজাহির।


এছাড়াও বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জুলহাকাম, সদস্য তপন ও মো. ফজলে রাব্বি সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।


সভায় বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্প্রে করাসহ পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তারা বলেন, মৌলভীবাজারে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।


বক্তারা জানান, সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ৩০ জন শিশু ও ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক। জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জনের। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে অন্তত ১৫ শিশুর মৃত্যুও হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় শতাধিক হাম ও ডেঙ্গু রোগী।


জেলার সরকারি হাসপাতালে ৩৭ জনের দেহে ডেঙ্গু শনাক্তের মধ্যে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩২ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন ভর্তি রয়েছেন।


তথ্য অনুযায়ী, পুরো জেলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৭৬ জনের, এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জন।


সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায় ও এডিস মশার বিস্তার রোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা জরুরি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বিদ্যালয়, বাসা-বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।


তারা আরও বলেন, বাসা-বাড়ি কিংবা আশপাশে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।


সম্পর্কিত খবর

;