সংসদে আরিফুল হক

ইরান যুদ্ধের কারণে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ : 09 Jul 2026
ইরান যুদ্ধের কারণে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার বিরুপ প্রভাব মোকাবিলায় থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের নতুন শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এক সময় বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম চা রপ্তানিকারক বাংলাদেশ এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সীমিত পরিসরে চা আমদানি করছে।

নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীন ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং দালালচক্রের প্রতারণা কমাতে সরকার ডিজিটাল অভিবাসন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন, ভিসা যাচাই ও বহির্গমন ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন সেবা এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স এবং সাব-এজেন্ট নিবন্ধন ও আচরণ) বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

নতুন শ্রমবাজারে গুরুত্ব ॥ মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে প্রচলিত শ্রমবাজার কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের সম্ভাবনাময় বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের বিষয়েও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু ॥ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে লেবাননে পাঁচজন, সৌদি আরবে তিনজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুজন, ইরাকে একজন এবং বাহরাইনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনকে সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে এবং নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

রপ্তানি থেকে চা আমদানির তালিকায় বাংলাদেশ ॥ কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, এক সময় বিশ্বে চা রপ্তানিতে পঞ্চম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সীমিত পরিসরে চা আমদানি করছে। ২০২৫ সালে দেশে ৯৪ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে এক দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি এবং শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি করা হয়েছে। চা শিল্প সুরক্ষায় সরকার ১৭২টি চা বাগানে ভর্তুকি মূল্যে রাসায়নিক সার সরবরাহ করছে।

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ ॥ গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও চালসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি সহজীকরণ, শুল্ক ও করহার যৌক্তিকীকরণ এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন, আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


সম্পর্কিত খবর

;