পঞ্চদশ সংশোধনীর আংশিক বাতিল বহাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা ফিরল

প্রকাশ : 09 Jul 2026
পঞ্চদশ সংশোধনীর আংশিক বাতিল বহাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা ফিরল

স্টাফ রিপোর্টার: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানি হয়। 


আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭(ক) অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল-স্থগিতকরণকে অপরাধ এবং ৭(খ) অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য করার কথা ছিল। 


রায়ে আদালত বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা দিয়ে এই বিধান বাতিল করা হয়েছিল, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই এটি বাতিল করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো। 


হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, “গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি”। আদালত আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। 


তবে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হয়নি। রায়ে বলা হয়েছে, বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে। 


উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পৃথক দুটি রিট করেন। পরে আপিল বিভাগের অনুমতি নিয়ে রিটকারীরা পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চেয়ে আপিল করেন। 


সম্পর্কিত খবর

;