অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : 08 Jul 2026
অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান তিনি। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

একই প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ২০২৪ সালের পহেলা অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ক ১৪টি বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণেই গুজব মোকাবিলা, তথ্য যাচাই এবং সাংবাদিকতায় এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তথ্য মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ৬৮টি তথ্য অফিসের মাধ্যমে সারাদেশে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন জনবহুল স্থানে, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নিমিত্ত চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, আলোচনাসভা ও মতবিনিময় সভা আয়োজন, মাইকিংসহ গণসচেতনতামূলক বিভিন্ন ধরনের প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সম্পর্কিত খবর

;