সাবেক অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, নথি চেয়েছে দুদক

প্রকাশ : 13 Oct 2026
সাবেক অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, নথি চেয়েছে দুদক

স্টাফ রিপাের্টার: সরকারি দায়িত্ব পালনে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর সদস্যদের পেনশন-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডারের কর্মকর্তা সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর চাকরিসংক্রান্ত ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


উপলব্ধ নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ মে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করা হয়। এতে তাঁর চাকরিকালীন বিভিন্ন দায়িত্ব পালন, মিশন অডিট সংক্রান্ত নথি, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য চাওয়া হয়েছে। নথির মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, পারিবারিক তথ্য ও টিআইএন সংক্রান্ত কাগজপত্রের কথাও উল্লেখ রয়েছে।


এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রশাসন ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি চিঠিতে সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার, অবসরপ্রাপ্ত বিমানসেনাদের পেনশন ও অবসরভাতা সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে অনিয়ম, সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণ এবং প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চিঠিতে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।


এছাড়া বিভিন্ন মহলে আরও কিছু অভিযোগ উত্থাপনের দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে পূর্ত অডিট অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে অডিট দলের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ, সরকারি দপ্তরের আসবাব ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার এবং বদলি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ২০১৭ সালে সিজিডিএফের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য কিংবা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


দুদকের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে শুধু নথি তলব বা অনুসন্ধান শুরু হওয়া থেকে অভিযোগের সত্যতা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি নিরপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবেন।


এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি, কোনো বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে কোনো নিরীক্ষা হয়েছে কি না, তা জানতে অর্থ মন্ত্রণালয়, দুদক এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


সম্পর্কিত খবর

;