আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর ভারতের হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কুম্ভ মেলায় পদদলিত হয়েছে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয় এখনও আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য জানাযায়নি। বিবিসি বাংলা
বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভোর রাতে প্রয়াগরাজ শহরের তিন নদীর মিলনস্থলের কাছাকাছি হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মোট কতজন মারা গেছে জানা না গেলেও পরিষেবা দানকারীদের স্ট্রেচারে মৃত্যু দেহ নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মধ্যরাতে একদল ভক্ত পুলিশের বাঁধা টপকে স্নানের জন্য সঙ্গমস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। গঙ্গা, যমুনা ও কাল্পনিক স্বরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থানেক পবিত্রস্থান বলে গণ্য করা হয়, যেখানে সবাই পূণ্যের আশায় স্নান করতে চায়। তারা বিশ্বাস করেন, এর ফলে তাদের পাপ ধুয়ে যাবে এবং তারা মুক্তি পাবেন।
বিশ্বের বৃহত্তর লোক সমাবেশ ভারতের কুম্ভ মেলা শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি। মেলা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ছয় সপ্তাহের এই হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে ৪০ কোটি পূণ্যার্থী অংশ নেওয়ার কথা বলেছে আয়োজকরা।
খবর এএফপি বলেছে আয়োজকদের তথ্যনুযায়ী , কুম্ভ মেলার প্রস্তুতি এত বড় যে, তাদের একটা অস্থায়ী দেশ তৈরী করতে হয়েছে। যে দেমে কানাড ও আমেরিকার সম্মিলিত মানুষের চেয়ে বেশী মানুষ বাস করবে।
মেলার মুখপাত্র বিবেক চতুর্বেদী বলেছেন, প্রায় ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি ভক্ত-সাধু মেলায় আসছেন। এজন্য প্রায় দেড়লাখ টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। কমিউনিটি একেকটি রান্না ঘরে পঞ্চাশ হাজার মানুষ খেতে পারবেন। মূল অনুষ্ঠান স্থলে ৬৮ হাজার এলডি লাইট সেট করা হয়েছে। যার আরো আকাশ থেকে দেখা যাবে। স্থাপন করা হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার তাবু, এক লাখ ৪৫ হাজার বিশ্রামাগার, তিন হাজার রান্নাঘর ও ৯৯টি গাড়ি রাখার সেট।
ভারত সরকারে সূত্রমতে, ২০১৯ সালে যখন শেষবার আধা কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল তখন মেলাতে ৪০ কোটি লোক জমায়েত হয়েছিল।
ভারত সরকার কুম্ভমেলাকে ভাষা, ঔতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মিলবন্ধন হিসেবে ভাবে। যা একটা ছোট্ট ইন্ডিয়া তুলে ধরে। যেখানে কোন নিসন্ত্রণ ছাড়াই কোটি কোটি মানুষ আসেন।
কুম্ভমেলা মুল অনুষ্ঠান হয় গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীয় মোহনায়। যেখানে পূণ্য লাভের আশায় হাজার হাজার মানুষ একসাথে স্নান করে। অনেকে সপ্তাহ বেশী হেঁটে মেলাস্থলে পৌঁছায়। হিন্দু ধর্মলম্বীরা মনে করেন গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতীর পবিত্র জলে স্নান করে মানুষ পাপ থেকে মুক্ত হয়। পুনর্জন্মের চক্র ভেঙ্গে বেরিয়ে যায়।
কুম্ভমেলার মুলে বলা হয়, দেবতা বিষৃ অসুরদের সঙ্গে লড়াই করে অমৃত ভর্তি একটি কলস নিয়ে এসেছিলেন। অমৃত পান করলে অমরত্ব লাভ করা যায়। এই কলসি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অমরলোকে বিষৃ ১২ দিন ধরে লড়াই করেছিলেন, তখন কলস থেকে চার ফোটা অমৃত পৃথিবীতে ছিটকে পড়ে।
অমৃত ফোটাগুলো পড়েছিল প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়নী ও নাশিকে । তাই চার শহরে তিন বছর পর পর ঘুরে ঘুরে কুম্ভমেলা আয়োজন করা হয়। এভাবে প্রতি ১২ বছর পর যে মেলা হয় তাতে 'মহা' শব্দটি যোগ হয়ে তা 'মহা কুম্ভ মেলা"য় পরিনত হয়।
ইউনেস্ক কুম্ভমেলাকে আধ্যাত্মিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভূক্ত করেছে। এই মেলায় সবচেয়ে বেশী লোক সমাগম হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: রাতের মধ্যেই ইরানে ‘ভয়াবহ হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তি ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়ে ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার, ৯ জুন স্থানীয় সময় ভোরে হরমুজগান ও কেরমান প্রদেশের সীমান্তবর্তী সারগাজ এলাকার কাছে ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার জেরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ ...
সব মন্তব্য
No Comments