ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু

রাতেই ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের, খার্গ দ্বীপ কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ : 11 Jun 2026
রাতেই ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের, খার্গ দ্বীপ কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: রাতের মধ্যেই ইরানে ‘ভয়াবহ হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “আজ রাতেই ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করবে” এবং শিগগিরই খার্গ দ্বীপসহ ইরানের অন্যান্য তেল অবকাঠামো ‘দখল’ করা হবে।


ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ সব ধরনের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা ‘শেষ হয়ে গেছে’। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ ও অন্যান্য তেল স্থাপনা দখল করে ইরানের তেল-গ্যাস বাজারের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেবে, যেভাবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করা হয়েছিল।


খার্গ দ্বীপ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল। দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি এই দ্বীপ দিয়েই হয়। কঠোর সামরিক নজরদারির কারণে দ্বীপটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ হিসেবেও পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।


ট্রাম্পের হুমকি এখানেই থেমে থাকেনি। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি স্থাপনার একটি বড় অংশ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে এবং সামনে আরও হামলা আসন্ন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা আরও কয়েকটা হামলা করব, এমনি মজা করে।” একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ দেন এবং মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, খার্গ দ্বীপ দখল করাই তার ‘পছন্দ’, তবে মার্কিন জনগণ ইরানে স্থলসেনা পাঠানো সমর্থন করবে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত চুক্তি না হলে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ, খার্গ দ্বীপ এবং সম্ভবত সব লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্টও ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।


এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খার্গ দ্বীপে ‘বড় বোমা হামলার’ ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাধা দিলে তেল স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।


সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত ডেনিস রস বলেন, খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা হলে ইরান সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তার মতে, ট্রাম্প সম্ভবত বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে চাইছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপে অভিযান চালালে ইরান উচ্চমূল্যের জ্বালানি স্থাপনাসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।


দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা হুমকির মুখে পড়েছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খার্গ দ্বীপের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা যুদ্ধকে আরও বিপজ্জনক ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলারে উঠেছে।


হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। এই প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলের দাম বাড়ছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, প্রণালী দিয়ে তেল নেওয়া দেশগুলোকে নিজেদেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক সাহায্য’ করবে।


বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ দখল করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বীপটি অবরোধ করতে হবে বা সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলতে হবে, যা ‘খুবই বিপজ্জনক উদ্যোগ’। ট্রাম্পের এমন হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;