সালমান শাহ হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন কারাগারে

প্রকাশ : 09 Aug 2026
সালমান শাহ হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার: চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে (৫৪) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।


রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডনকে আটক করে। পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়। দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।


জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা


আদালতে দেওয়া আবেদনে সিআইডি জানায়, আশরাফুল হক ডন মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পুনরায় আত্মগোপনে যেতে পারেন এবং এতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জেলহাজতে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালত শুনানি শেষে সিআইডির আবেদন মঞ্জুর করে ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে ডনকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।


রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য


শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী মামলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডন মামলার আসামি এবং দেশত্যাগের চেষ্টা করার সময় ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।


রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সালমান শাহকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন, যার মধ্যে সালমান শাহকে অচেতন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং হত্যার জন্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ মামলার বিচার ও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাইসাপেক্ষ।


২৯ বছর পর হত্যা মামলা


সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছিল।


সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত নীলা চৌধুরীর পক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।


এর পরদিন ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা হয়েছে।


মামলার ১১ আসামি


মামলায় সামীরা হক ছাড়াও খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।


মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


ডনের বিরুদ্ধে আগেই দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা


সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন ও সামীরা হকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।


তদন্ত কর্মকর্তা তখন আদালতকে জানিয়েছিলেন, আসামিরা পলাতক এবং তাদের বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদেশে চলে গেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।


তদন্ত প্রতিবেদন ৩০ আগস্ট


বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা একাধিকবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ ২৩ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।


এদিকে ডন গ্রেপ্তার ও কারাগারে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক আগের সালমান শাহর মৃত্যুর মামলায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

সম্পর্কিত খবর

;