নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট ও হলে সিট বরাদ্দ নিয়ে চরম ভোগান্তি

প্রকাশ : 01 Feb 2025
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট ও হলে সিট বরাদ্দ নিয়ে  চরম ভোগান্তি

জাককানইবি প্রতিনিধি:  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ৩ বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার রেজাল্ট ও হল সিট বরাদ্দে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ ১১ মাস পর প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ হওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ফলস্বরূপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সিট বরাদ্দের আবেদনে মার্কশিট না থাকতে পারায় তারা হলের সিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হলেও দীর্ঘ ১১ মাস পর রেজাল্ট প্রকাশ হয়। এর ফলে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর  হলে সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দিলে তারা সিট বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় মার্কশিট জমা দিতে না পারায় হলের সিট পেতে পারছেন না। একই অভিযোগ তুলেছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। তবে অন্যান্য বিভাগে সিট বরাদ্দ পেতে সক্ষম হয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা সংশ্লিষ্ট অফিসে বারবার ঘুরলেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেবে না, অন্যদিকে সিট বরাদ্দে ব্যবস্থার অভাবে তারা চরম হতাশায় পড়েছেন। তারা জানান, "প্রভোস্ট বলছেন, ডিপার্টমেন্টের সাথে কথা বলুন, আর ডিপার্টমেন্ট বলছে, 'ভিসির কাছে যান', কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরেও নির্দিষ্ট সময় পাওয়া যাচ্ছে না।"


এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সিট বরাদ্দের আবেদন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ প্রকাশিত মার্কশিট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। মার্কশিট না থাকলে আবেদন অসম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবং সেই অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "নিয়ম মেনেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে।"


এছাড়া, সম্প্রতি হলের সিট বরাদ্দের ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা গেছে, পূর্বের সিট অ্যালোটমেন্ট বাতিল হয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সেই সিট পুনরায় বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে, কিছু শিক্ষার্থী তাদের সিটে অবস্থান করায় নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। হল প্রাধ্যক্ষ জানান, "যারা নির্ধারিত সময়ে বকেয়া পরিশোধ করে অ্যালোটমেন্ট কার্ড সংগ্রহ করেননি, তাদের আসন বাতিল হয়েছে এবং এই সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।"


শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা দ্রুত সমাধান না পেলে আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, একদিকে একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে থাকার জায়গা না পেয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

;