আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প এবং পুতিনের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক আজ

প্রকাশ : 15 Aug 2025
আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প এবং পুতিনের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আজ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিতি একটি সামরিক ঘাঁটির কাছের একটি ভেন্যুতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা আর সময় স্বল্পতার বিবেচনায় বৈঠকটি কয়েক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হওয়ার কথা নয়।


২০২২ সাল থেকে মস্কো (রাশিয়া) ও কিয়েভ (ইউক্রেন) এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত। ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত রাখার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে ট্রাম্প অটল থাকবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। গত সপ্তাহে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ঘোষণা কার্যত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা স্থগিত করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ভেবে দেখার জন্য দুই পক্ষই বাড়তি সময় পেয়েছে।


বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈঠকটি 'সফল না হওয়ার সুযোগ ২৫ শতাংশ' বলে বৃহস্পতিবারই (১৪ আগস্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারণা দিয়েছেন।


এই বৈঠক নিয়ে সপ্তাহজুড়েই মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি নানা মাত্রায় ওঠানামা করেছে—কখনো আশাবাদী, কখনো সতর্ক, আবার কখনো কঠোর ভঙ্গিতে।


সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে গিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধ শেষ করতে রাজি না হয়, তবে "অনেক গুরুতর পরিণতির" মুখোমুখি হবে।


অন্যদিকে, ট্রাম্প যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘অঞ্চল বিনিময়ের কথা তোলেন’—তখন ইউক্রেনের দিক থেকে উদ্বেগ দেখা দেয়।


এদিকে রাশিয়া প্রায় পুরোটা সময় নীরব থেকেছে। স্থবির যুদ্ধরেখা, অঞ্চল বিনিময় বা মস্কো-ওয়াশিংটনের মধ্যে খনিজসম্পদ সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কোনো জল্পনা-কল্পনায় জড়ায়নি দেশটি।


এই নীরবতার ধারাবাহিকতা আছে। সপ্তাহজুড়ে ক্রেমলিন কর্মকর্তাদের কথায় কেবল পুতিনের আপসহীন অবস্থানের বিষয়টিই উঠে এসছে।


তারা স্পষ্ট করে বলেছে যে যুদ্ধের অবসান তখনই ঘটবে যখন রাশিয়া দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক—যা দনবাস অঞ্চলের অংশ—এবং খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করবে। একইসাথে কিয়েভকে অসামরিকীকরণ করার এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।


তবে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, পুতিনের সঙ্গে তার যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা হয়তো এই সংঘাতের অবসান টানতে এবং তার বৈশ্বিক শান্তিদূতের ভাবমূর্তি জোরদার করতে সহায়তা করতে পারে।



উল্লেখ্য, ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। যুদ্ধবিরতি কিংবা নতুন নিষেধাজ্ঞা–যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার জন্য রাশিয়াকে বেঁধে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সময়সীমার ঠিক এক সপ্তাহ পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

;