নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ থেকে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ংকা গান্ধী আটক, পরে মুক্তি

প্রকাশ : 06 Oct 2026
নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ থেকে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ংকা গান্ধী আটক, পরে মুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশন অফিস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ংকা গান্ধী ভদ্রকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নয়া দিল্লিতে এই ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি, স্ক্রল ও টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের প্রায় ২৩৭ জন সংসদ সদস্য সংসদ ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্ভচন সদন অভিমুখে ‘সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ’ শুরু করেন। মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগ কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পুলিশ জানায়, মিছিলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না।


পুলিশ বাধা দিলে সাংসদরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা হাতে ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্রিয়ংকা গান্ধী ভদ্রসহ কয়েকজনকে পুলিশ বাসে তুলে আটক করে। আটকদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা সঞ্জয় রাউতও ছিলেন।


এনডিটিভির লাইভ আপডেটে জানানো হয়, আটকের কয়েক মিনিট পর রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ংকা গান্ধীকে আটক বাস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা নির্বাচন কমিশন ভবনের পাশের আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন এবং ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আকাশবাণী ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দূরত্ব মাত্র ১০০ মিটার। আকাশবাণী চত্বরের ভেতর দিয়ে কমিশন ভবনে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা।


বিক্ষোভের কারণ হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী জোট। তাদের তিনটি দাবি, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ, ব্যালট পেপারে নির্বাচন এবং এসআইআর-এ বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহাল।


অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই বিক্ষোভকে পরাজয়ের হতাশা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে তারা লড়ছেন।


সম্পর্কিত খবর

;